রুষার তিনটি কবিতা--
শিউলি
কত বার ঢলে পড়তে পড়তে বেঁচে যাই প্রত্যাখ্যানের ভারে
আর কত আবছা পথ চলতে হবে...
ছেলেবেলার প্রেম...
রাতের পর রাত কালো কালি লেপে দিয়ে যায়।
কালি মেখে শুয়ে থাকি ভোরের জানালায়...
লাশের পর লাশ পেরিয়ে এগিয়ে যাই,
ঘর ছাপিয়ে দম বন্ধ বাতাস ঢুকতে থাকে।
ছেলেবেলার একমুঠো শিউলি ফুল...
দাদুর হাতে তোলা,
ভেসে আসতে থাকে আমার মৃতদেহের কান বেয়ে।
মাঝে হাজার শরীরের ব্যবধান
কোটি কোটি শরীর
কোটি কোটি মন পেরিয়ে ছেলেবেলার শিউলি ফুলের কাছে মাথা নত হয়ে আসে।
২-নিশাচর
ওই তারের উপর বসে থাকে পাখিটা
গোটা শহরকে দেখে চুপচাপ
হাজারো শব্দের সাক্ষী হয়ে বসে থাকে।
কত রাতের দীর্ঘশ্বাস, বোবা যন্ত্রণা, চেরা কান্না...
পাখিটা চুপচাপ শোনে
বোধ হয় হিসেব করে
ঠিক ভোরে চলে যায়।
অভিনয় শুরু হয়
মঞ্চ সাজানো হয়...
উদ্দাম নৃত্য, সঙ্গীতের ভারে ভরে ওঠে শহরের বুক।
ঠিক রাতে পাখিটা ফিরে আসে...
শহর হালকা হয়।
ফিক করে হেসে সে উড়ে পালায়...
পড়ে থাকে মুখোশ।
৩-ওরা
অসম্পূর্ণ কবিতারা ভিড় করে করে আসে একে একে
ওরা স্রষ্টা কে খুঁজতে চায়,
আমি লুকোই
তারা চেয়ে থাকে ড্যাবডেবিয়ে...
একে একে বানান ভুলতে থাকি
অসম্পূর্ণ শরীরে তারা চেয়ে থাকে...
ঠাণ্ডা চোখ।
বলতে চায় আমাকে কিছু হয়তো...
কিন্তু কি বলতে চায় আমি জানি।
ওরা চেয়ে থাকলে ঘুম পাড়িয়ে দিই।
ঘুমো...
তোরা ঘুমো...
* রুষা
ঠিকানা - যাদবপুর
No comments:
Post a Comment