Showing posts with label অলভ্য ঘোষ. Show all posts
Showing posts with label অলভ্য ঘোষ. Show all posts

Sunday, 6 March 2022

অলভ্য ঘোষের দুটি কবিতা --

অলভ্য ঘোষের দুটি কবিতা --   

অ্যাসপারগারস সিনড্রোম                                             
কাল রাতে তুমি এলে
রোজ রাতের মত দীর্ঘ স্বপনে।
না সেতো স্বপ্ন নয়;আমি চোখ মেলে
চেয়েছিলাম। তোমার দীঘল
চোখের পাতা পড়েছিল দুইবার;
লিপস্টিক দেওয়া লাল ঠোঁট;
কেঁপেছিল কুড়ি থেকে গোলাপ
ফোটা পাপড়ির মত। 
সুরমার আইলাইনার।
রেখায় বাধা চোখে মণি দুটো
তোমার চঞ্চল এদিক ওদিক।
ছুট ছিল। আকাশের দিকে।
মাটির দিকে। 
অথচ তুমি আমার দিকে 
চাইতে পারছিলে না।
আতরের মত কোন পারফিউমের গন্ধে। 
আমি যেন সম্রাট শাহজাহানের মতো 
একটা গোলাপ ফুল হাতে
তাজমহলের অন্দর মহলে বুক পেতে
তোমার অপেক্ষা করছিলাম। আর তুমি
আমার মমতাজ আকাশের তারাদের ছেড়ে 
এই চাঁদনী রাতে এসেছ আমার সাক্ষাতে। 
বুকের ভিতর তোমার কপোত কপোতী 
বক বকম করছে। অথচ মুখে 
একটাও কথা পড়ছে না।
আমি চিবুক খানা তুলে ধরে 
আলতো ঠোঁটে ঠোঁট চুমতে গেলাম 
তুমি সরে গেলে দশ হাত।
মৃগয়ার হরিণীর মত। 
তোমার জরির পারের জেল্লা 
মহলের শিশা গুলো থেকে
আলো ঠিকরে এসে চিকচিক করে উঠলো। 
আর চিকচিক করে উঠলো আমার বুক।
মরুভূমির বালির উপর সূর্য কিরণের মতো!
তোমার কপালের ঝুলন্ত টিকলির মত; 
আমার হৃদপিন্ডটা যেন দুলছিল।
ডান দিক-বাম দিক পেন্ডুলামের মতো। 
তোমার পায়ের নুপুর ঝনাৎ করে উঠেছিল
যেভাবে। আমার বুকটাও মোচড় দিয়েছিল 
ঠিক একই রকম। পেছন থেকে তোমার কোমরে
দুটো হাত ছোঁয়ালাম। বুঝতে পারছিলাম
তোমার বুকটা কেঁপে কেঁপে উঠছে 
হাতের মুঠোয় বন্দী দুটি নিরীহ শশকের মতো। 
তোমার শরীরটা কাঁপতে কাঁপতে যেন
শক্ত আড়ষ্ট হয়ে আসছিল। আর আমার হাত দুটো
ততই তোমাকে আষ্টেপিষ্টে আমার বাহু বন্ধনে 
বেঁধে ফেলতে চাইছিল।
আমি মিশে যেতে চাইছিলাম 
তোমার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। দুটো প্রাণীর
অনুভূতির চরম সিক্ততার অনুরণন 
ছড়িয়ে কি পড় ছিলনা এই সুবিশাল আড়ম্বর ময় 
রাজমহলে। শূন্যে ভেসে আছি মনে হচ্ছিল। 
মসৃণ স্বচ্ছ আরশি গুলো নির্লজ্জের মতো 
আমাদের দেখছে কিনা;
সেদিকে খেয়াল ছিল না। ঝাড় বাতিটা 
মাথার উপর নিভিয়ে দিতে বললে যেন তুমি;
আলতো ঠোঁট আটকে আসা গলার বাঁকে। 
লজ্জা সব লজ্জাবতীর মতো আলোর সংসর্গে।
আমার বুকে প্রেমের চিতা নিভবে কেমন করে।
একি ওড়নার তলায় যখন দুজনে মিলে হলাম এক! 
আগুনে যেন ঘৃতাহুতি হল। শরীর ফুঁড়ে 
শরীর ঢুকে পড়ে;
বোঝার উপায় থাকে না কোনটা কার।
এত বড় সাম্যের পথ ছেড়ে
কে জানে কেন এই পৃথিবীতে
ভেদাভেদ আছে গেড়ে।
শজারুর মতো কাঁপতে কাঁপতে
নরম তুলতুলে স্তনও
কচ্ছপের খোলের মত শক্ত হয়।
সমস্ত সত্তারা সব
মিলনে অস্তিত্ব হারায়।
আমি তখন নিয়ন্ত্রণ রেখার বাইরে। 
স্খলিত হয়ে পড়লাম। 
বোবা চোখ বুজে এল ঘুমে।
তবু তুমি নিবিড় আমার বাহু পাশে।
সকালে ঘুম ভেঙ্গে উঠে দেখি;
আমার স্বপ্ন সহচরী হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
-যা!মিছে বানিয়ে বানিয়ে বলা।
তোর আমার এক দশকের ফারাক।
তুই যখন প্রথম পৃথিবীর আলো দেখছিস
আমি তখন অলকানন্দা স্কুলে ক্লাস থ্রিতে পড়ি।
তাতে কি নবীর যদি খাদিজা  হয়;
আমার মমতাজ চন্দ্রিমা হবে না কেন!
-সুন্নত!
কেন তুমি হেসে গড়িয়ে পড়ছ শুনে!
-প্রথম ভাগের সুন্নত সবার জন্য ওয়াজিব নয় 
দ্বিতীয় ভাগের সুন্নত গুলো প্রতিটি উম্মতের জন্য
 অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।নবীকে ফলো করতে গিয়ে
ফেল মারবি বুঝলি। তার চেয়ে
বরং সাইক্রিয়াটিস্ট দেখা।
হো হো করে হাসছো তুমি!
সকলের চোখ এড়িয়ে টিফিনের
অবসরে যে রাতের কাব্যালাপ।
তাজমহলের আরশি গুলোর মত 
অফিস ক্যান্টিনে সবাই
এখন চেয়ে আছে আমাদের টেবিলের দিকে। 
ঝাড়বাতির আলো যেমন মহলের শিশেদের ওপর 
প্রতিফলিত হয়ে ঠিকরে আসে। তেমনি 
তোমার উপেক্ষার হাসি সংক্রমিত করেছে
উপস্থিত সকলের হো-হো-করে হাসা 
ক্লোজআপ দাঁতের হাসিতে।
অমলেটটা  ন্যাতার মতো পড়ে প্লেটে। 
চা জুড়িয়ে জল।
ব্রিটিশ পিরিয়ডের ঢাউস ফেনটা 
মাথার উপর ঘট ঘট শব্দে ঘুরছে।
একটুও হাওয়া লাগছে না গায়ে।
কেবল একা আমি না সকলেই
মনো রোগীর মতো কোন না কোন
কাল্পনিক সম্পর্কে বাঁচে!

স্বমৈথুন

আত্মীয় বলতে কেউ নেই,
বন্ধু বলতে আর কেউ নেই,
ঘর বলতে ঘর নেই,
শহর বলতে শহর নেই,
দেশ বলতে দেশ নেই;
প্রেমিকা বলতে কেউ নেই।
অর্থ বলতে কিছু নেই,
অনর্থ হবারও ভয় নেই।
আমার জন্য আমি আছি 
একটা নিরেট আমি।
কোনও শুয়োরের বাচ্চার কাছে 
তা বেচতে পারবো না।
আমার আমি টাই সময়ে সময়ে 
আমার আত্মীয়,বাইরের  কারোসাথে 
রক্তের যোগাযোগ থাকলেও থাকতে পারে 
আত্মার যোগাযোগ নেই।
আমার আমি টাই অসময়ে বন্ধু বুকে টেনে নেয়;
বাকি সব স্বার্থপর।স্বার্থ ছাড়া কেউ নেই।
বাইরের ঘরটা অসাড় জেলখানা মনের ভেতর 
বহু কক্ষ সম্বলিত শান্ত সৌম্য নিরাপদ আমার 
একটা ঘর আছে।যার কোনও দেওয়াল নেই।
এই কংক্রিটের শহর  আমার নয়; আমার 
শহর আমার হৃদপিণ্ডটা ঘিরে আমারই পাঁজরে তৈরি।
আমার দেশ আমার স্বপ্নের ভেতরে মস্তিষ্ক জুড়ে।
ঘিলুর রাজত্ব একটা আধার আদর্শের।
আমি নিজেই আমার প্রেমিকা;
পথে পথে ঘুরি নিরন্তর কপোতের মত
বকবকুম বক করে কথা বলে চলি নিজের সাথে।
আত্মার সঞ্চয় ই আমার সঞ্চয়।
আত্ম জ্ঞান ছাড়া সবকিছুই নিরর্থক 
অর্থহীন আমার কাছে।
তাই স্বমৈথুন করে চলেছি নিজেকে।


*অলভ্য ঘোষ
৯৪৫ হরিদেবপুর নেতাজী পল্লী কলকাতা ৭০০০৮২
৯৩৩১৯৮২৬৭২



*অলভ্য ঘোষ
৯৪৫ হরিদেবপুর নেতাজী পল্লী কলকাতা ৭০০০৮২
৯৩৩১৯৮২৬৭২

মৃত্যু --- শান্তা মিএ

মৃত্যু --- শান্তা মিএ এ পোড়া দেশে মোরা মরি আর মরি। অসুকে মরি দারিদ্র্যের তাড়নায় মরি  অ্যাক্সিডেন্টে মরি অমিক্রণ করোনা নামক ভিন্...