সান্ত্বনা চ্যাটার্জির তিনটি কবিতা--
আমি ফিরে যাই
আমি ফিরে যাই,
তুমিও থাকবে না দাঁডিয়ে,
মাঝ খানে শূণ্য হাহাকার
এক বুক দীর্ঘশ্বাস
কত কিছু গেল হারিয়ে।।
সময় চলে যাবে তার মত,
আজকের ভাঙ্গা হাটে
কাল নতুন বাজার।
আজ তোমার দৃষ্টি স্নাত
বৃষ্টি পড়েছে হাজার যার বুকে,
কাল সেকি ভিন্ন দুটি চোখের ছায়ায়,
থাকতে পারবে সুখে।
আমি ফিরে যাই,
যে পথে বিষন্নতা আছে ছেয়ে
মেঘের মতন।
সে পথে কবির লেখা
শেষের কবিতা।
সেখানে প্রেমের হয় শুরু,
দিন শেষ হয়ে গেলে আকাশে
মেঘের দল বেদনায় বাজে গুরু গুরু।।
এ পথের শুরু কই শেষ কোন খানে,
কেউ কি তা জানে !
তবু মাঝে মাধ্যে ফিরে আসি,
এ পথে ছড়ানো আছে হাসি ।
এ পথে হৃদয়ের যৌবন ধরা পড়ে,
হৃদয় মাতাল হলে সে মদিরা হাতে
ফিরে যাই ঘরে।।
শেষ অঙ্ক
বড়ই ধাঁধালো এই জীবনের অঙ্ক ,
মেলাতে মেলাতে দিন যায়।
এসেছি মৃত্যু হাতে, দুজনার মিলন তৃষায়।
কে তুমি একলা রাজ করো!
আপন ইচ্ছা মত ভাঙো আর গড়ো,
ব্রহ্মাণ্ডে অযুত নিযুত…
প্রাণে অপ্রাণে তোমার স্পর্শ ,
সে কি ভুল, কেবলই আমার কল্পনা।
প্রেমের বাসরে তুমি ইচ্ছা হয়ে দিয়েছিলে ধরা।
দুটি প্রাণ এক হয়ে কায়ায় মিলেছে।
পেয়েছে সুতীব্র এক কামের বেদনা,
সে আকাঙ্ক্ষা , সে তারের ঝঙ্কারে,দুজনার চরম মিলনসুখে
তুমি ছিলে মিশে।।
আপনি আশিস হয়ে ভ্রূণ হয়ে এলে,
সেদিন হে প্রিয় আমি পেয়েছি তোমায়
অসহনীয় প্রসব যন্ত্রনায়।
আমার সকল হয়ে জরায়ে রয়েছ মোরে
প্রেমে অপ্রেমে মিলনে বিচ্ছেদে,
শেষে অন্তিম শয্যায়।।
তবুও হে প্রিয়তম বুঝিনা কে যে তুমি আপন জঠরে ধরো
অখণ্ড ,অসীম, এক অনন্ত জ্যোতিঃ,
প্রকাশ তবুও হও আমার
খণ্ডিত আত্মায় ।।
অরূপ রতন
ছিলাম যখন অন্ধকারে,
ঝড়, বৃষ্টি, ঝঞ্ঝা চারিধারে ,
অন্ধজনের মতন বাড়িয়েছিলাম হাত ,
সঁপেছিলে অরূপরতন কেটে গেল দুঃস্বপ্নের রাত ।।
তোমার সে দান রেখেছিলাম হৃদয় মাঝে আঁচল দিয়ে ঢেকে ,
দুঃখ, কষ্ট যতই আসুক ,
হারাবনা আর কিছুতেই একে ।।
হৃদাকাশে মেঘ বৃষ্টি এখনও আসে যায়,
সূর্য থাকে তার জায়গায় ,
উদয় অস্তাচলে ।
মনের জমিতে নরম মাটি ,
কত লোকে আসে যায় , তোমার দয়ায়
তবুও সেখানে এখনও ফসল ফলে ।
চোখের তারায় আঁধার-আলো
খেলা করে যায় জীবন জুরে ,
মনের গভীর অন্তঃপুরে ,
বিশ্বাস আলো জ্বালে ।
সেই বিশ্বাস দানা বেঁধে আজ হয়েছে যে মহীরুহ,
বিরাট আকার বিশাল দৃঢ়তা শান্তির ছায়া ফেলে ।।
No comments:
Post a Comment