হারান চন্দ্র মিস্ত্রীর দুটি কবিতা --
১ অপ্সরা
মানুষের প্রচন্ড ভিড়-
ভিড়ের মাঝে আমি একা।
নিঃস্ব অসহায় বোধ করি তোমার জন্য এক
প্রেমের ভিখারী।
তুমি দানী-
দান করো তোমার অমোঘ প্রেম।
হৃদয়পাত্র নিয়ে প্রতীক্ষায় আছি আমি,
যার আলিঙ্গনে
তুমি তৃপ্ত হতে পারো আজীবন।
অলঙ্কার আর অহঙ্কারে পরিপূর্ণ হয়ে
তুমি হয়ে উঠতে পারো
এ যুগের সম্পূর্ণা।
তোমার প্রেমে মুগ্ধ যে হাত পেতে
তাকে এড়িয়ে
সমাধিস্ত ঋষির ধ্যান ভাঙাতে
অনাবিল ব্যস্ততা কেন তোমার
অপ্সরা।
২
বখাটে
গ্রামের বখাটে ছেলে,
সুঠাম শরীর তার,
খেলাধূলা করে বড়ো হয়েছে সে,
শুধু নামসই জানে।
বাবা নেই,
রাস্তার পাশে
একটি কুটিরের বাসিন্দা তার মা।
কারও ফরমাস অবমাননা করে না,
সারাদিন হাসিখুশি থাকে আর
গীত গায় এই ছেলে।
অতর্কিতে একবার
সে শুয়ে পড়েছিল হাসপাতালের শয্যায়
এক অসহায় প্রসূতির রক্ত দিতে।
সেবার নিজের উপার্জনের সমস্ত টাকা দিয়ে
মোড়ল পাড়ার বুড়ি পিসিকে
বাঁচিয়ে এনেছিল কঠিন অসুখ থেকে।
এবার মোড়ল মশায়ের ছোটো মেয়ের বিয়েতে গন্ডগোল।
গহনার ওজন নিয়ে কথা কাটাকাটি
মারামারি পর্যন্ত গড়িয়েছে।
ফিরে গেছে বর।
অতএব বখাটে ছেলেকে ধর!
কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই
হয়ে গেল গায়ে হলুদ।
কে শোনে কার কথা!
গাঁটছড়া বাঁধা হলো দুজনের।
সিঁদূরদানও শেষ।
কার জীবনে কখন যে কী ঘটে যায়!
কুঁড়ে ঘরে টিম টিম করে জ্বলছে আলো।
মা বারান্দায়।
বাসররাতে একঘরে দুজনে।
কনে বৌ সেজেগুজে অপেক্ষায়।
ধনীর দুলালী
আজ তার ঘরে লক্ষ্মীপ্রতিমা।
সঙ্কোচে এগোতে পরে না
বখাটে ছেলে।
অগত্যা এগিয়ে এসে চোখে চোখ রাখে
মোড়লের ঝি।
বৌকে প্রশ্ন করে বখাটে-
আমাকে মন থেকে মেনে নিয়েছ তুমি?
উত্তরে অশ্রুতে চোখ ভাসিয়ে
স্বামীকে জড়িয়ে ধরে বলে নতুন বৌ-
তোমাকে না মেনে পারা যায়!
শুধু তোমাকেই ভালবাসি।
জনম জনম যেন তোমাকেই পাই।
No comments:
Post a Comment