বহ্নি শিখার(ঊষা দত্ত) গুচ্ছ কবিতা --
নাই বা হলো'
ঘুমিয়ে পড়,নিভে গেছে,রাতের আলো,।
নেমেছে জোনাকির ঝাঁক,
সাগরের মুখ গহ্বর থেকে ছোঁয়ে যাক-
জিভের ডগায় রুপোলী বালুকা বেলা।
ঢেউয়ে ঢেউয়েই পেরিয়ে যাক,তাবৎ
দিনের ঘর্মাক্ত কলেবর হতে বাষ্প,
মিলিয়ে যাক দিগন্তে,না বলা কথারা,
না-ই-বা হলো শব্দের বর্ণের মিলন।
না হোক ধোঁয়ার কুন্ডলীর মতো উর্ধগামী স্বপ্ন পূরণ,
অনুভবে সতেজ শিরাগুলো টান টান,
নিভৃত রাত্রির গায়ে জ্বলে থাকুক
স্বর্ণালী তারাদের অহংকার।
—---
জ্যান্ত লাশ ঘর
অবশেষে নীলাকাশটা ধুসর শূন্যতা নিয়ে সাগরের সাদা বুক--
খা খা রোদ্দুরে মিশে গিয়ে দিগন্তে
ফসল শূন্য এক উদাসী বক,
নিভে যাওয়া সূর্যের আকাশ ফ্যাকাসে শরীরে চুপ করে একা,
সব বিরহভার বয়ে যেনো তার জীবনপাটের সরব নিস্তব্ধতা,
নিঃসঙ্গতার অলীক আলোর জোনাক সাধনায় ব্যস্ত থেকে--
ঘটো'পরে মা আমার শ্বেতপদ্মের মতো বসে থাকে সারাদিনই,
জীবনের লাশঘরে ফাকুন্দা পড়া কষ্ট নিয়ে।
—----
চাঁদ নয় কাস্তে
ইচ্ছে গুলো কাস্তের মতো ধারালো হওয়া চাই,
নয়তো আকাশের ওই কাস্তের মতোই থেকে যাবে,
বাস্তবের নাগালের বাইরে,
ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে স্বপ্ন দেখা, প্রাপ্তির সকল ইচ্ছে ফসল।
বিছে পোকার ধারালো জিহবা খেয়ে নেবে সবুজ স্বপ্ন।
জোনাক পুচ্ছের আলোক ধাঁধায় কেটে যাবে সহস্র জনম,
গোলা থেকে বেরুবে না তৃপ্তির
স্বচ্ছ সাদা দাঁতের আলোকময় দিপ্তী,
ভোঁতা কাঁচির সরল জৌলুস চিরদিন কেড়ে নেয় কোলের নুন ভাত।
--------------
ভাগ করে নাও
প্রহর গুনি তোমার কথা শুনতে,
সে কি তুমি বুঝোনা?
দ্বিধা লাগে,আমার খুব দ্বিধা লাগে–
সে কথাটি বলতে।
তুমি যে কার গোপন আকাশ শুধু জানতে চেয়ো না,
কথায় কথায় যদি আমার সকল কথার মানেই খোঁজো–
কি করে বলি? আমার অনেক কথার নেই কোনো মানে।
একটু ভালোবেসে মন বাড়িয়ে কষ্টগুলো সব ভাগ করে নাও তুলে।
----------
এতো রাগ করলে কি চলে?
এতো রাগ করলে চলে?
তুমি একা,আমি বহু।
নিজে নিজের মন যুগিয়ে চলো।
আমি উপেক্ষা করতে পারিনা-
লতা পাতা,ডাটা শেকড় কোন কিছুকে।
ওদের নিঃশ্বাস আমার মধ্য দিয়েই,
আমি জল হলে ওরা বাঁচে।
বাতাস হলেই দুলে।
তুমি অনুকূল না হলে আমি আর আমাতেই থাকি না,
এতো রাগ করলে চলে?
--------
No comments:
Post a Comment