Friday, 4 March 2022

শংকর ব্রহ্মর এক ডজন কবিতা--

শংকর ব্রহ্মর এক ডজন কবিতা--

১).

পূর্ণতা
শংকর ব্রহ্ম
------------------------

কিছুই যায় না ভোলা,তবু কিছু ভুলে থাকতে হয় 
সময়ের চাপে, মায়ে বাপে ভুলে থাকে পুত্রশোক,
" তোর ভাল হোক " যতই বলুক লোক
                       হয় না কখনও সে প্রত্যাশা পূরণ,
       সে কথা তুমিও জান,সে কথা আমিও জানি,
জানে সব আমজনগণ, এর নাম দুর্লভ জীবন ! 

মন তো থাকে না শূন্য,ভরে যায় সব,
         হৃদয় কি পূর্ণতা কখনই করে না অনুভব?

২).

সংস্কার
শংকর ব্রহ্ম
------------------

করণীয় কাজ হল না কিছু করা
ভুলে ভুলে ফুল উঠল না ফুটে গাছে
কাছে ছিল যারা   
                 তারা আজ কেউ নেই
তবু আছে যারা     নিজেরাই তারা
                       অসহায় দিশাহারা  

শেষ বেলা এসে    মনে পড়ে শেষে
কত নোনা জল ঢুকে
জীবনের স্বাদ নোনতা করেছে
        একদিন যাবে সব চুকেবুকে  

জীবনে ফেরার ডাক দাও যদি
সংস্কার কর ভিতরে বাহিরে
সংস্কার কর আবর্জনায় রুদ্ধ
                    গতিহারা যত  নদী    

৩).

রাধা-কৃষ্ণ
শংকর ব্রহ্ম
------------------------

          কদম গাছে বাঁশি হাতে বালক থাকে বসে
বালিকা কোন দেখতে পেলে ফুল ছুঁড়ে সে হাসে
ডাক নামটি কৃষ্ণ যে তার
       ওরা সবাই কেউ নয় আর রাধা নামের যত
              বালিকারা ঘুরে বেড়ায় পথে ঘাটে কত। 

         কৃষ্ণ কিছু করে  না কাজ বাজায় শুধু বাঁশি
    মুখে যে তার লেগে থাকে অনাবিল এক হাসি
তাই দেখে কি রাধার বুকে বেজে ওঠে সুর
          কৃষ্ণ এখন মথুরায় নয়    থাকে হৃদয়পুর।

     কৃষ্ণ রাধার হয় না মরণ     যুগ যুগ হয় পার
প্রেমের খেলায় নারী পুরুষ ধারে না কারও ধার।

    এ কালেও কৃষ্ণ রাধা    খুঁজলে পাবে পাড়ায়
   ওরা শুধু প্রেমের গুঁতোয় সব কিছু যে হারায়।

৪).

উপেক্ষা
শংকর ব্রহ্ম
-----------------------

                         অন্ধ বাউল আমি একতারা হাতে
নদীর এপারে বসে আপন খেয়ালে ভাসি
নদী তার আপন স্বভাবে একদিন হারায় নিজেকে 
কবিতা কবিকে চায়    কবিও তো চায় তাকে
                      মাঝখানে থাকে তবু বিস্তর ফারাক
কবি সেটা জানে    কবিতারও অজানা তা নয় 
অন্ধের অনুভবে বোঝা আমার কবিতা
                                         গ্রানাইট পাথরে কোঁদা
সাওতাল যুবতী ঘরে ফেরে কাজ সেরে 
                  আপন মনেই আমাকে উপেক্ষা করে।

৫).
                              
প্রাপ্তি                             
শংকর ব্রহ্ম
--------------------

                  তোমার জন্য জমা ছিল কয়েকটি দিন 
বুকের ভিতর ভাবনারত
     দুপুর ও রাত কেটে গেছে দুঃখে সুখে ইচ্ছা মত
বুকের ভিতর দাগ পড়েছে গাঢ় আরও।

যখন তোমার দেখা পেলাম
                                        কাছে পেলাম মুখো মুখি
টেবিল ঘিরে কয়েকটি কাপ শূন্য শুধু পড়েই আছে
মুহূর্তকয় তোমার আমার বোঝাবুঝির ভুলের জন্য।

                                   দুঃখ পাওয়া মন্দ কি আর?
বুকের ভিতর শক্ত হবে সূক্ষ্ম হবে চিন্তাধারা
ভিতর থেকে দেখতে পাব স্বচ্ছ নদীর জলের ধারা।

দুঃখ আমার একান্ত আজ
                               তোমার তাতে কি আসে যায়?
তুমি শুধুই সুখে থাক
                              সবাই কি আর সব কিছু পায়?

৬)                  

বৃষ্টির ঠিকানা       .     
শংকর ব্রহ্ম
--------------------

তুমি এক আহাম্মক       তাই ভাব গোলাপটা লাল
এর চেয়ে সতেজ সবুজ কোন ফুল
                                      তুমি দেখেছ কোথাও  

সমস্ত জীবন যার বুক জুড়ে        সমুদ্র আকাশ 
তাকে তুমি স্বাভাবিক গলায় শেখাও
                                    ভালবাসাহীনতাই পাপ  
তুমি এক নির্বোধ 
                             তাই আজও ভালবাসা মান
গোলাপের সাথে কর      রমনীর ঠোঁটের তুলনা
সদরে দাঁড়িয়ে বল       আকাশের রঙ ঘন নীল
আকাশটা নীল       এ কি কোন বিশেষ সংবাদ  
                                                       তর্ক থাক
রঙ বলে আকাশের কোন কিছু নেই
                       যা আছে তা হল বৃষ্টির ঠিকানা,
বৃষ্টির মত কোন ভালবাসা নেই
                যা সময়ে ঝরে যাবে ফসল ফলাবে।

৭).
 
নতুন বছর আসছে বলে
শংকর ব্রহ্ম
-----------------------

নতুন বছর আসছে বলে,বুকের ভিতর উঠছে ঢেউ
নতুন বছর আসছে বলে নতুন করে আসছে কেউ?
আসছে বলেই নববর্ষ লাফাচ্ছ খুব মনে,
ভাবছ না তো থাকবে যে কে থাকবে না কোন জনে।
নতুন বছর আসছে বলে আকাশ বাতাস রঙিন হলো
নতুন বছর আসছে বলে কেউ কি কারও মন রাঙালো?
আসছে বলেই নববর্ষ ফুরিয়ে যাচ্ছে জীবন
এই কথাটা ভাবার সুযোগ দিচ্ছে নাকি মন। 
নতুন বছর নতুন বছর বলো তোমার নতুন খবর
নতুন বছর আসছে বলে জিনিষেরও  কি কমলো দর?
নতুন বছর আসবে যাবে তাতে তোমার আমার কি? 
আমরা তো সেই পুরনো গড্ডালিকা প্রবাহেই ভাসছি।

৮).
 
গোপন আঁতাত
শংকর ব্রহ্ম

---------------------------

অর্থনীতি কোমর ভেঙে ন্যায় ও নীতির
                     ভবিষ্যৎ করে তুলছে ভয় ও ভীতির।
রাজনীতিক আজ ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে
দলের স্বার্থ রাখতে গিয়ে জানে কি তারা দেশের হাল কি করেছে?

বিবেক বুঝি প্রতিবাদী কাজের আমার ভাও কত তার?
সব কিছু আজ পণ্য জেনো আমার কাছে অর্থকরী
  যা ইচ্চে তাই ইচ্ছে মতন মূল্য ধরে কিনতে পারি।
প্রেম,মেধা,বোধ,সততা ও ক্রোধ খুশি মতোন 
কিনতে পারি নিজের করে যে যেমন তার মূল্য ধরে 
                     পণ্য সবই অর্থনীতির চাকায় ঘোরে।

                     অর্থনীতি বাঁধ ভেঙেছে সমাজনীতির
বেনো জলে যাচ্ছে ভেসে হৃদয়,মেধা 
            মূল্য যে সব হারিয়ে যাচ্ছে প্রেম ও প্রীতির
কালো টাকা উড়ছে কত মদ ও জুয়ায়
                     কত নারী টাকার জন্য সবই খোয়ায়
      অথচ যারা পায় না খেতে একবেলা দু মুঠো ভাত  
 এও যেন রাজনীতি আর অর্থনীতির গোপন আঁতাত।

৯).

আনন্দ ও স্বস্থি
শংকর ব্রহ্ম
-----------------------

ক).

আমার সুখের চাবিটা,আমি জমা রেখেছি দুঃখের কাছে
আর দুঃখের চাবিটা রেখেছি,সুখের জিম্মায়
এতে লাভ হয়েছে কি?
এখন,একে অপরের ড্রয়ার গোপনে খোঁজে, দ্যাখে
কে কতটা কি সোহাগ আদায় করতে পেরেছে আমার থেকে,
ফলে ওরা কেউ আর এখন আমাকে জ্বালায় না,
মানে জ্বালাবার সময় পায় না।
                                     বেশ আনন্দে আছি আমি।

খ).

এরপর আনন্দের চাবিটা রাখি বিষাদের কাছে,
                         বিষাদেরটা আনন্দের জিম্মায়,
পরস্পর গোপনে পরস্পরের ড্রয়ার খুঁজে দেখে
কে কতটা ভালবাসা আদায় করতে পেরেছে আমার থেকে
ওরা কেউ এখন আমাকে আর বিরক্ত করে না,
                                   ফলে স্বস্তিতে আছি বেশ।

১০).
                               
যোগ্যতা
শংকর ব্রহ্ম  
----------------------------        

                                                    ভালবাসা ছাড়া 
আর কোন যোগ্যতাই নেই এ দীনের
চরাই উৎরাই পেরিয়ে কবিতার কাছে 
                           তবু পৌঁছাবার আশা রাখি মনে,
যেন তোমাকে নিবিড় করে পাওয়া 
                                নীল নির্জনে, একান্ত গোপনে
কখন যে ধরেছি হাত পারিনি তা জানতে
             গোলাপ বাগানে গেছি কিছু ফুল আনতে।

                                                    ভালবাসা ছাড়া 
আর কোন যোগ্যতাই নেই এ দীনের,
মশা হয়ে ঘুরি তোমার চতুর্দিকে,
                গুনগুনিয়ে শোনাই তোমায় প্রেমগীতি,
মারতে এলেই হঠাৎ দু'হাত দূরে সরে গিয়ে,
ফিরে এসে রক্তে তোমার হুল ফোটাই, ডেঙ্গি দিই
                  তবু আমি  ভুলতে তোমায় দিই না যে।
এমনি করেই বাসি ভাল, সর্বনাশের নেশায় মেতে।
ভালবাসা ছাড়া আর কোন যোগ্যতাই নেই এ দীনের।

১১).

বিশ্ব ভাষা দিবস              
শংকর ব্রহ্ম
-------------------------   
 
                        
                             দিনটি একুশে ফেব্রুয়ারী
নত মস্তকে প্রাণের আবেগে 
                                 আজকে তাদের স্মরি
বাঁচাতে সেদিন বাংলা ভাষার মান
           অকাতরে যারা সঁপে ছিল নিজ প্রাণ 

তাদের অমূল্য সেই দান
                আজ পেয়েছে সারা বিশ্বে সম্মান
সগৌরবে অর্জন করেছে
                               বিশ্বভাষা দিবসের স্থান
আমরা যারা বাংলা ভাষা-ভাষি 
                                   বেড়েছে তাদের মান। 

আজ বিশ্ব ভাষা দিবসের দিনে 
                               কিংবা তার আগে পরে
ভাষার স্বাধীনতার জন্য
                            যারা আজও লড়াই করে 
তাদের কথা ভেবে 
                  আমরা সবাই উর্ধ্ব শিরে 
                  বুক চিতিয়ে করতে পারি বড়াই। 

বাংলা ভাষার প্রাণ ও মান বাঁচতে   
                                   দিয়ে ছিল যারা প্রাণ
সেই একুশে ফেব্রুয়ারী 
আজকে তাদের নত মস্তকে 
                                       হৃদয়ে স্মরণ করি।

১২).

কবি                        
শংকর ব্রহ্ম
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

আমরা যারা কবিতা লিখি
                                    আসল কবি ক'জন?
এই প্রশ্ন উঠলে জানি
                                         রুষ্ট হবেন সুজন। 
রুষ্ট হবে যে সব সুজন       
তাদের কথা ভেবে কি করা যায়?
               এবার সে দায় চেপে বসে মাথায়। 
তাদের কথা ভেবে দু'ঠোঁট চেপে
                    চুপটি করে মুখটি বুজে থাকি।
কবি হতে ব্যস্ত সবাই    
                                লেখায় বেলায় ফাঁকি।

কবি যদি হতেই চাও
                        কবিতা লেখায় মনটি দাও
আগের চেয়ে বেশী
                              শুনে বুঝি হলে অখুশি?

--------------------------------------------------------

No comments:

Post a Comment

মৃত্যু --- শান্তা মিএ

মৃত্যু --- শান্তা মিএ এ পোড়া দেশে মোরা মরি আর মরি। অসুকে মরি দারিদ্র্যের তাড়নায় মরি  অ্যাক্সিডেন্টে মরি অমিক্রণ করোনা নামক ভিন্...