সাহুডাঙির পদ্য গদ্য--
কল্যাণ সেনগুপ্ত কাজল
সাহু নদীর অববাহিকায় ডাঙা জমি —
এটাই নামকরণের সার্থকতা ৷
সেখানে রামকৃষ্ণ আশ্রম
জনশ্রুতি সেখানে সুন্দর ফুল , বিরল বিটপী , ঔষধি
কৈশোরের পর যাওয়া হয়নি
তখন ধুলিময় শূন্য প্রান্তর , দিগন্তে তাকালে
চোখ আটকে যায় বৈকুন্ঠপুর বনাঞ্চলে
আশ্রমেরও কোনো জৌলুস নেই ৷
এখন ঝাঁ চকচকে ইস্টার্ণ বাইপাস
বাস , লরি , ম্যাক্সি-ট্যাক্সির অবিরত আনাগোনা
ক্রোশপাঁচেক ঐ পথ পেরিয়ে গেলাম সেদিন
আশ্রমের চাকচিক্য বেড়েছে , বেড়েছে কানুন
শুনলাম , ফটক খুলতে এখনও ঘন্টাদুয়েক দেরি
আচমকা যাওয়া , তথ্য অজানা ছিল ৷
সৌন্দর্য উপভোগের জন্য দু'ঘন্টা অপেক্ষা !
অসহনীয়
বিশেষত সময় বইয়ে দেবার উপায় না থাকলে ৷
অতএব ফিরে চল —
বাইপাস ছেড়ে এবার আদর্শ পল্লীর রাস্তায়
কিছু দূরের সমান্তরাল পথে
বাঁ দিকে শহরের ছোঁয়াচ লাগেনি
ডানদিকে গ্রাম্য বাড়ির ফাঁকে ফাঁকে ও দূরে মাঠে
গড়ে উঠছে কংক্রিটের সাজানো বাগান
তবু সারা পথ ডাইনে বাঁয়ে তাকালেই
অসংখ্য মুকুলিত আম ও তেজপাতা গাছ
এখানে ওখানে লাউমাচায় ঝুলন্ত লাউ
মনে আসে না লাউ-চিংড়ি খাই
মনে হয় অনন্তকাল এভাবে ঝুলুক ৷
আবেশি মননে কেটে গেল কাল......
সংবিৎ ফিরলো শহরের কাঠিন্যে
আকাশে দু'টি পাখি পাশাপাশি উড়তে উড়তে যেমন
পালকে পালকে ছোঁয়া লাগে মাঝে সাঝে
তেমনি আমাদের বাহনের সাথে
অন্য এক বাহনের সামান্য ছোঁয়াচ লেগেছে
ক্ষতিকর নয় কোনো কিছু ৷
ক্ষিপ্ত চালকদ্বয় উত্তেজিত হয়ে
একে অপরকে দোষারোপের বন্যায় ভাসালো ৷
রকে ব'সে ছিল কটা ছেলে , বেশ বড়
প্রবল উৎসাহে "হোয়" "হোয়" ক'রে
দু'পক্ষকেই উস্কাতে লাগলো....,
তোরা কি শয়তান না মূর্খ নাকি অন্য কিছু
বিবাদ না মিটিয়ে উস্কানি দিচ্ছিস ?
তোরা চলছিস উদ্দেশ্যহীন বেপরোয়া ভাবে
কিছুই করতে হবে না তোদের
অন্ততঃ
যারা কিছু ভাল করার চেষ্টায় আছে
তাদের উৎসাহ দে
দেখবি সমাজের চেহারা পাল্টে কী হয় !
——— x ———
No comments:
Post a Comment