Sunday, 6 March 2022

তোমার জন্যে--ডঃ তাপস কুমার সরকার

তোমার জন্যে--
ডঃ তাপস কুমার সরকার

তোমার জন্য 
লিখছি কিছু ভেবে নিওনা তুমি,
আমার লেখা তোমার কাছে জীবন থেকে দূরের।  
একটা কোকিল শিষ দেয় রোজ বাসন্তী সকালে;
একটা প্রহর জেগে থাকে তবু, শুধু তোমারই জন্য। 
একটা জীবন পড়তে পড়তেই বেলা গড়ায়-
প্রদীপের তেল আসে ফুরিয়ে। 
ভাদরের আদর মেঘে
সাঁঝ সকালে বাউল বাতাস আউল ছন্দে
যে সুর বাঁধে, তার গহীনে আমার কলম
ডুব দিয়ে খোঁজে ব্যর্থতার লয়। 
আপন ছন্দে তুমি
চরণরেখা ফেলে যাও ঘাসে ঘাসে 
কোন এক দীর্ঘশ্বাসে;
আলতা রাঙা পা ধোয়ায় ভোরের শিশির। 
চোখ কি কখনো মিথ্যে বলতে পারে ?
মুখোশ আজও ঢাকতে পারে নি চোখ। 
বলেছিলে, রাগ করা তোমার অধিকার ; তাই
রাগ ভাঙ্গানোর দায়িত্বটা  নাহয় আজ
থাকলো শুধুই আমার।


ভাবতরণী--সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

ভাবতরণী--
সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

প্রেমহীন সাজানো সংলাপে পৃথিবী কাঁদে,
অসীমা দুঃখ হৃদধমনীতে ধারণের সংকটে,
বিলাসী সম্পর্করা ক‍্যানভাসের শূন্য ডিগ্রীতে,
গাঢ়ত্ব যেন মরুভূমির মরীচিকা ডেকে আনে,
কৃত্রিম ভাবতরণী ভাসছে দেওয়ানেওয়ার ঘাটে,
সামান্য ফাটল প্রকাশিত সুগভীর গিরিখাতে,
অগ্নুৎপাতের আগুনে বন‍্যা খুশী লুটে নিচ্ছে,
নির্বিকল্প সমাধিতে অনুভূতির প্রতিটা রোমকূপ,
খেলা হবে,মেলা হবের সাময়িক উত্তেজনায়,
বার বার নিবিড় ক্লান্তির চরকা বুনতে বুনতে,
সমস্ত আয়ুষ্কাল শুষে নিচ্ছে এলোমেলো গতি,
গড়াভাঙা দেখতে দেখতে ভেঙে পড়া দৌড়,
অগুনতি বাঁচার জন্য সে তো জানা আছে,
রহস‍্যের জট খুলে একইরকম সরল বাঁচা,
শুধু জন্মমৃত‍্যুর ছক এঁকে এঁকে চলার পথে,
নুড়িপাথর সম্পর্কগুলো শত নামে ডাকে।
.............................................
*ফোন ও হোয়াটসআপ নম্বর-9674386270

স্মৃতি-হামিদুল ইসলাম

স্মৃতি-
হামিদুল ইসলাম
                              
নিঃশব্দতা ভাঙে পুতুল 
উঠোনে বাসি রাত
আকাশে সারি সারি মেঘ। সংসার ভাঙে গড়ে 
হতাশার সাগরজলে প্রতিদিন ডুবে যায় বেহুলা মান্দাস    ।।

জলে জলে ভাবনারা অঙ্কুরিত 
কাগজের নৌকোয় বিকিকিনি জীবন মরণ
আমরা ইতিহাস হই 
নবাবগঞ্জের হাটে ফেলে আসি কবিতার জন্মদিন 
কিঞ্জর উৎসব    ।।

ভোরের মিছিলে আজও সূর্য উদয় 
কৃষ্ণচূড়ায় ফিরোজা সকাল 
আমরা ঝড় জল নদী পেরিয়ে ফিরে আসি ভোঁকাট্টা কারখানায় 
শূন‍্য ট্রামলাইন 
জীর্ণ ছাদের টবে আমাদের স্বপ্নগুলো এখনো শুকোয়     ।।

ঘুঘু ডাকা দুপুর 
ক্লান্ত রোদ 
নির্জন পুকুর ঘাট। নগ্ন জলে ভাসে কবিতার ছবি 
আমি কবিতা হাতে নিয়ে দেখি আগুন। জ্বলন্ত উল্কা     ।।

পুড়ে যায় জীবন
ন‍্যাড়া বট। ছায়া ছায়া স্মৃতি। আমরাও ছায়া ছায়া উলঙ্গ স্মৃতি হয়ে উঠি খুব সহজেই    ।।
___________________
*গ্রাঃ+পোঃ=কুমারগঞ্জ। জেঃ=দক্ষিণ দিনাজপুর। মোঃ+হোঃ=8637316460।

রুষার তিনটি কবিতা--

রুষার তিনটি কবিতা--

শিউলি

কত বার ঢলে পড়তে পড়তে বেঁচে যাই প্রত্যাখ্যানের ভারে
আর কত আবছা পথ চলতে হবে...

ছেলেবেলার প্রেম...
রাতের পর রাত কালো কালি লেপে দিয়ে যায়।
কালি মেখে শুয়ে থাকি ভোরের জানালায়...
লাশের পর লাশ পেরিয়ে এগিয়ে যাই,
ঘর ছাপিয়ে দম বন্ধ বাতাস ঢুকতে থাকে।
ছেলেবেলার একমুঠো শিউলি ফুল...
দাদুর হাতে তোলা,
ভেসে আসতে থাকে আমার মৃতদেহের কান বেয়ে।
মাঝে হাজার শরীরের ব্যবধান
কোটি কোটি শরীর
কোটি কোটি মন পেরিয়ে ছেলেবেলার শিউলি ফুলের কাছে মাথা নত হয়ে আসে।

২-নিশাচর

ওই তারের উপর বসে থাকে পাখিটা
গোটা শহরকে দেখে চুপচাপ
হাজারো শব্দের সাক্ষী হয়ে বসে থাকে।
কত রাতের দীর্ঘশ্বাস, বোবা যন্ত্রণা, চেরা কান্না...
পাখিটা চুপচাপ শোনে
বোধ হয় হিসেব করে
ঠিক ভোরে চলে যায়।
অভিনয় শুরু হয়
 মঞ্চ সাজানো হয়...
উদ্দাম নৃত্য, সঙ্গীতের ভারে ভরে ওঠে শহরের বুক।
ঠিক রাতে পাখিটা ফিরে আসে...
শহর হালকা হয়।
ফিক করে হেসে সে উড়ে পালায়...
পড়ে থাকে মুখোশ।

৩-ওরা

অসম্পূর্ণ কবিতারা ভিড় করে করে আসে একে একে
ওরা স্রষ্টা কে খুঁজতে চায়,
আমি লুকোই 
তারা চেয়ে থাকে ড্যাবডেবিয়ে...
একে একে বানান ভুলতে থাকি
অসম্পূর্ণ শরীরে তারা চেয়ে থাকে...
ঠাণ্ডা চোখ।
বলতে চায় আমাকে কিছু হয়তো...
কিন্তু কি বলতে চায় আমি জানি।
ওরা চেয়ে থাকলে ঘুম পাড়িয়ে দিই।
ঘুমো...
 তোরা ঘুমো...

* রুষা
ঠিকানা - যাদবপুর

যাপন--শক্তিপ্রসাদ ঘোষ

যাপন--
শক্তিপ্রসাদ ঘোষ 

কথা মেঘ জমে আছে বসন্ত ঠোঁটে 
তথ্যচিত্রের মত জমে আছে
অসংখ্য পরিসংখ্যান 
গোলবাগান থেকে শুরু করে 
           শালবাগানের গলি পথ
পথের  আলপনা
জল রঙে আঁকা সাবলীল কথা
সোনালী রোদের দুপুর 
আলোকিত ক্যানভাস 
সাংকেতিক ভাষার আনাগোনা 
আটপৌরে ভালোবাসা 
ক্লান্ত মাঠে ফড়িং ধরা 
                          জীবনযাপন।

     --------- --------- --------

*শক্তিপ্রসাদ ঘোষ
রবীন্দ্রনগর,নিউটাউন 
কোচবিহার-৭৩৬১০১
মোঃ- ৯৭৩৩০১৭৭৪৯

সান্ত্বনা চ্যাটার্জির তিনটি কবিতা--

সান্ত্বনা চ্যাটার্জির তিনটি কবিতা--


আমি ফিরে যাই


আমি ফিরে যাই,
তুমিও থাকবে না দাঁডিয়ে,
মাঝ খানে শূণ্য হাহাকার
এক বুক দীর্ঘশ্বাস
কত কিছু গেল হারিয়ে।।

সময় চলে যাবে তার মত,
আজকের ভাঙ্গা হাটে
কাল নতুন বাজার।
আজ তোমার দৃষ্টি স্নাত
বৃষ্টি পড়েছে হাজার যার বুকে,
কাল সেকি ভিন্ন দুটি চোখের ছায়ায়,
থাকতে পারবে সুখে।

আমি ফিরে যাই,
যে পথে বিষন্নতা আছে ছেয়ে
মেঘের মতন।
সে পথে কবির লেখা
শেষের কবিতা।
সেখানে প্রেমের হয় শুরু,
দিন শেষ হয়ে গেলে আকাশে
মেঘের দল বেদনায় বাজে গুরু গুরু।।

এ পথের শুরু কই শেষ কোন খানে,
কেউ কি তা জানে !
তবু মাঝে মাধ্যে ফিরে আসি,
এ পথে ছড়ানো আছে হাসি ।
এ পথে হৃদয়ের যৌবন ধরা পড়ে,
হৃদয় মাতাল হলে সে মদিরা হাতে
ফিরে যাই ঘরে।।

শেষ অঙ্ক

বড়ই ধাঁধালো এই জীবনের অঙ্ক ,
মেলাতে মেলাতে দিন যায়।
এসেছি মৃত্যু হাতে, দুজনার মিলন তৃষায়।
কে তুমি একলা রাজ করো!
আপন ইচ্ছা মত ভাঙো আর গড়ো,
ব্রহ্মাণ্ডে অযুত নিযুত…
প্রাণে অপ্রাণে তোমার স্পর্শ ,
সে কি ভুল, কেবলই আমার কল্পনা।
প্রেমের বাসরে তুমি ইচ্ছা হয়ে দিয়েছিলে ধরা।
দুটি প্রাণ এক হয়ে কায়ায় মিলেছে।
পেয়েছে সুতীব্র এক কামের বেদনা,
সে আকাঙ্ক্ষা , সে তারের ঝঙ্কারে,দুজনার চরম মিলনসুখে
তুমি ছিলে মিশে।।
আপনি আশিস হয়ে ভ্রূণ হয়ে এলে,
সেদিন হে প্রিয় আমি পেয়েছি তোমায়
অসহনীয় প্রসব যন্ত্রনায়।
আমার সকল হয়ে জরায়ে রয়েছ মোরে
প্রেমে অপ্রেমে মিলনে বিচ্ছেদে,
শেষে অন্তিম শয্যায়।।
তবুও হে প্রিয়তম বুঝিনা কে যে তুমি আপন জঠরে ধরো
অখণ্ড ,অসীম, এক অনন্ত জ্যোতিঃ,
প্রকাশ তবুও হও আমার
খণ্ডিত আত্মায় ।।


অরূপ রতন


ছিলাম যখন অন্ধকারে,
ঝড়, বৃষ্টি, ঝঞ্ঝা চারিধারে ,
অন্ধজনের মতন বাড়িয়েছিলাম হাত ,
সঁপেছিলে অরূপরতন কেটে গেল দুঃস্বপ্নের রাত ।।
তোমার সে দান রেখেছিলাম হৃদয় মাঝে আঁচল দিয়ে ঢেকে ,
দুঃখ, কষ্ট যতই আসুক ,
হারাবনা আর কিছুতেই একে ।।
হৃদাকাশে মেঘ বৃষ্টি এখনও আসে যায়,
সূর্য থাকে তার জায়গায় ,
উদয় অস্তাচলে ।
মনের জমিতে নরম মাটি ,
কত লোকে আসে যায় , তোমার দয়ায়
তবুও সেখানে এখনও ফসল ফলে ।
চোখের তারায় আঁধার-আলো
খেলা করে যায় জীবন জুরে ,
মনের গভীর অন্তঃপুরে ,
বিশ্বাস আলো জ্বালে ।
সেই বিশ্বাস দানা বেঁধে আজ হয়েছে যে মহীরুহ,
বিরাট আকার বিশাল দৃঢ়তা শান্তির ছায়া ফেলে ।।

ধারালো এবং মসৃণ--আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস

ধারালো এবং মসৃণ--
আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস

আমি রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে আছি

কোন দিক থেকে একটা কুকুর ছুটে এসে আমাকে কামড়ে দিয়ে চলে গেল

উফ্, সঙ্গে সঙ্গে জায়গাটা আমার ব‍্যথা হল আর রক্ত ঝরতে লাগল

আমাকে এখন ভ‍্যাকসিন নিতে হবে
না হলে আমার জলাতঙ্ক রোগ হবে
আমি মারা যাব
আমার প্রিয়জনদের খুব কষ্ট হবে
তারা কান্না করবে

এত কিছু হবে সব জেনেও আমি কুকুরটাকে কিছু বললাম না, ছেড়ে দিলাম

কী বলব

সে তো একটা কুকুর
মানুষকে সে কামড়াতেই পারে
এ আর আশ্চর্য কী

কিন্তু কুকুর না হয়েই যে মানুষ এখন কুকুরের আচরণ করছে, কামড়াচ্ছে, ছিঁড়ে দিচ্ছে, তাড়া করছে
তাহলে তাদের মারব কীভাবে, কিছু বলব কীভাবে

তাদের দন্ত যে আরও বেশি ধারালো এবং মসৃণ;
---------------

আমি একটু বসতে পারি তোমার পাশে
আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস

আমি একটু বসতে পারি তোমার পাশে,
বৈকালি হাওয়ায় সবুজ ঘাসে?

নীচে নদী প্রবহমান
ক্ষতি কী, যদি ঘটে যায় কোন অঘটন;

তোমার বাদামি চুল আর নীল চোখ
শুষে নিতে পারে আমার সব শোক।

আমার যত কাতরতা যত আর্তনাদ,
তুমিই চেপে রাখতে পারো বুকের খাদ।

তোমাকে আমার মনে হয়েছে সেই নারী
তাইতো আমি তোমাকে নিয়ে এইসব কল্পনা করি।

আমি একটু বসতে পারি তোমার পাশে,
বৈকালি হাওয়ায় সবুজ ঘাসে?
                          ------------
*ঠিকানা:-আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস
গ্রাম+পোস্ট:-সারাংপুর খাসপাড়া,
থানা-ডোমকল,
জেলা-মুর্শিদাবাদ। পিন-৭৪২৩০৪।
মোবাইল ও হোয়াটস এ্যাপ:৯৯৩২০১৭৫৬৫।

মৃত্যু --- শান্তা মিএ

মৃত্যু --- শান্তা মিএ এ পোড়া দেশে মোরা মরি আর মরি। অসুকে মরি দারিদ্র্যের তাড়নায় মরি  অ্যাক্সিডেন্টে মরি অমিক্রণ করোনা নামক ভিন্...