Saturday, 12 March 2022

মৃত্যু --- শান্তা মিএ

মৃত্যু --- শান্তা মিএ

এ পোড়া দেশে মোরা মরি আর মরি।
অসুকে মরি দারিদ্র্যের তাড়নায় মরি 
অ্যাক্সিডেন্টে মরি অমিক্রণ করোনা নামক ভিন্ন ভেরিয়েন্টে মরি,
বিভিন্ন  ঝড়ের দাপটে মরি,
খাবারের জোগাড়ের জন্য মরি।
ছলনা চিটিং এ মরি আত্মহত্যায় মরি....
নিজের মধ্যে নিজেই মরি মনে মনে মরি,
ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য মরি,
লোকের ভালো দেখে মরি হিংসায় জ্বলে পুড়ে  মরি।
ভালোবাসার জন্য মরি ভালোবেসে মরি....
নানা  অশান্তিতে শুধুই মরি কেনইবা মরি কিসের  জন্য ..... কেন এমরণ বলতে পারো!!
টিকা ওষুধ যোগা এসব তো বাঁচার জন্য।
সত্যি কি বাঁচি আমরা...নাকি বাঁচার জন্য  শুধু বাঁচি......!

Sunday, 6 March 2022

জীবন-- সন্ধ্যা রায়

জীবন 
সন্ধ্যা রায়

জীবন তুমি দিয়েছ অনেক--
আর একটা বছর পার হল 
কোথাও আমায় উপেক্ষা 
কোথাও আমার অপেক্ষা।
জীবন তুমি দিয়েছ অনেক--
বছরের শেষ রজনী তুমি দিলে
কত আশা আকাঙ্খা ছেড়ে এলাম 
কত জন মিলেছে কত জন ভুলেও গেছে 
কেউ বা খুশি তে জড়িয়ে ধরেছে।
জীবন তুমি দিয়েছ অনেক--
কত স্মৃতির মিলন এ জীবনে 
কত না পাওয়ায় কেঁদেছি এক কোণে 
কেউ বা ভালোবেস কেউ বা রেগে
কেউ বা  জাড়ালো আবেগে।
জীবন তুমি দিয়েছ অনেক-- 
কেউ বা চেনা কেউ বা অচেনা 
কেউ তো আবার চিনেও চেনে না।
কিছু ঠিক কিছু ভুলও করেছি
কিছু সুখ কিছু দুঃখ দিয়েছি,
মাফ কর আজ ভুল যা করেছি,
হিসেবের খাতায় সবই পেয়েছি,
জীবন তুমি দিয়েছ অনেক।।

কোদাল নাও--অদিতি ঘটক

কোদাল নাও--
অদিতি ঘটক

ওরা অনেক বার এসেছে 
মুখোশ পরে, মুখোশ খুলে
 নরমে, গরমে একটাই কথা বলেছে
আমি ওদের বলেছি, সম্ভব নয়
আমি পারব না 
যুদ্ধ করতে
আমার ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ করতে।
ওরা বলেছে, শিখিয়ে দেব
আমরাও আগে অপটু ছিলাম।
বলেছি, করে লাভ ?
বলেছিল ভালো সময় কাটে 
সুন্দর নেশা হয়
বলেছি, এর থেকে ভাতঘুম আমার ঢের জরুরি
আর এটাই একমাত্র উৎকৃষ্ট নেশা
 ওরা অবাক হয়ে আমার দিকে চেয়েছিল
 তারপর জানলার দিকে চেয়ে
 ফুটিফাটা মাঠটা দেখে চোখের জল ফেলছিল
ওদের ভারী বুট আর বন্ধুকের বাট ঠোকাঠুকি বন্ধ করে দিয়েছিল
এগিয়ে গিয়ে ওদের কাঁধে হাত রেখে
কানে কানে বলেছি---
 কোদাল নাও। 
তোমার ছায়াও নেবে। 

###################

তাপসকিরণ রায়ের কবিতা --


তাপসকিরণ রায়ের কবিতা --

ডাল ভাত 

আমি ডাল ভাত খেয়ে বড় হলাম

এবং একদিন ডাল ভাত খেতে খেতে…

এবং আমার মত কোটি কোটি 

মানুষগুলি ঠিক এমনি ভাবে 

জীবনের শেষ অংক পার করে গেল... এবং তুমি সে পৃষ্ঠা সরিয়ে রাখলে, নেহাত কলমের দু'খোঁচায় 

লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনীএঁকে দিলে।  শেষ, ওরা ডাল ভাত খেয়ে চলে গেল..   

আর কিছু লেখা নেই, 

দুটো দাড়িচিহ্নে শেষ হল-- 

সভ্যতার সিংহভাগ।


কুয়াশা সরিয়ে যাচ্ছি


কুয়াশা সরে গিয়ে 

অন্য আর একটা দৃশ্যের অপেক্ষায় ছিলাম।

তোমার শরীরান্তর থেকে ভ্যানিশ ম্যাজিকের আরম্ভ হয়েছিল l

রহস্য এখান থেকেই শুরু--

একটা সত্ত্বা কিলবিলিয়ে উঠলো

আর আমি তোমায় পাবার অপেক্ষায় কুয়াশা সরিয়ে যাচ্ছি, আর সরিয়ে যাচ্ছি…


অ্যালবামের বাইরে


একটা ক্লিক এ ক্যামেরা জীবন 

একটা বন্দিজীবন ও ক্যামেরা জীবন দুচোখ কতবার মিলেছিল, 

সংখ্যায়িত সে সব দৃশ্যপট, স্নাপের এপিঠ-ওপিঠ।

ছায়াহীন ছবিহীন কবিতার ঘেরে-- তুমি আমি প্রতিদিনের ঘুম ও রাত জাগা,

ভাসাভাসা চেহারার টানে, 

শব্দহীন ছন্দ, দুর্দান্ত একটা জীবন,

কত তাড়াতাড়ি সরে যায়, 

সুখের সাগরে বারবার পা পিছল ছলাত, 

অ্যালবামের বাইরে

এক দীর্ঘ জীবন থেকে গেছে।


সীমা ব্যানার্জী রায় --ফড়িং ডানা...

সীমা ব্যানার্জী রায় --
ফড়িং ডানা...

শোনো! আজ লিখি তোমায় ...
আমার জানলার বাইরে যে 
ক্যামেলিয়া ফুলের গাছটা...
তাতে কুঁড়ি ধরেছে আনমনে
বরফ রঙের রোদে ডানা ভাসিয়ে 
দুটো ফড়িং শুধু ভালোবাসাবাসি
করে দিনভোর।

তাই গোপনে জানাই...
আমার আনমনা চেয়ে থাকা 
জানলার বাইরে দিয়ে...
বাতাস বয়ে যায়,
ভালবাসার গন্ধ নিয়ে।

এ কোনো উপমা নয়
চাইনিও মেলাতে আমি
শীত তো শোনে না কারো কথা 
মাটিতেই পুঁতে রাখে নিজস্ব নীরবতা
চিন্তা শুধু কফি কিংবা চায়ে।

আমার ভাবনারা ছুটে বেড়ায়...
কিশোরী নদীর মতো বিস্মৃতির স্রোতে 
একদিন আমিও ফড়িং ডানায়...
একদিন আমিও বরফ রোদে-
গা ভাসাবো তোমার দিকে চেয়ে ।

শেষে লিখি তোমায়...
তুমি ভয় পেয়ো না,
আমি বহু দূরে আছি...
শুধু একবার বলো,
তুমি আমাকেই ভালবাসো।
সত্যি বলছি নির্ভয়, কোনদিন আর
কিছু চাইব না...

কবিতা কখন আসবে তুমি?--তমা কর্মকার

কবিতা কখন আসবে তুমি?--
তমা কর্মকার

কখন আসবে তুমি ফিরে?
চলে যাওয়া পথ ধরে|
আমি যে আজও তোমার,
ফিরে আসার অপেক্ষায়|
মনে করে দেখো তুমি,
তোমার চলে যাবার পরে?
কেটে গেছে কত কাল?
ফুলের রঙে সেজেছে কত
প্রাণ প্ৰিয় রঙিন বসন্ত |
আমি  বসন্তের কোকিলের মতো
আজও করছি তোমার অপেক্ষা|
জানি ভুল ভেঙে গেলে?
তুমি দিশাহীন ভাবে খুঁজবে,
আমায় তোমার মনের অন্তরালে|
তাইতো তোমায় ছেড়ে আমিও
যেতে পারিনা অন্য কোথাও|

বহ্নি শিখার(ঊষা দত্ত) গুচ্ছ কবিতা --

বহ্নি শিখার(ঊষা দত্ত) গুচ্ছ কবিতা --

নাই বা হলো'

ঘুমিয়ে পড়,নিভে গেছে,রাতের আলো,।

নেমেছে জোনাকির ঝাঁক,

সাগরের মুখ গহ্বর থেকে ছোঁয়ে যাক-
জিভের ডগায় রুপোলী বালুকা বেলা। 

ঢেউয়ে ঢেউয়েই পেরিয়ে যাক,তাবৎ

দিনের ঘর্মাক্ত কলেবর হতে বাষ্প,

 মিলিয়ে  যাক দিগন্তে,না বলা কথারা, 

না-ই-বা হলো শব্দের বর্ণের মিলন। 

 না হোক ধোঁয়ার কুন্ডলীর মতো উর্ধগামী স্বপ্ন পূরণ,

অনুভবে সতেজ  শিরাগুলো  টান টান, 

নিভৃত রাত্রির গায়ে জ্বলে থাকুক 
স্বর্ণালী তারাদের অহংকার। 
—---

জ্যান্ত লাশ ঘর

অবশেষে নীলাকাশটা ধুসর শূন্যতা নিয়ে সাগরের সাদা বুক--

খা খা রোদ্দুরে মিশে গিয়ে  দিগন্তে 
ফসল শূন্য এক উদাসী বক, 

নিভে যাওয়া সূর্যের আকাশ ফ্যাকাসে শরীরে চুপ করে একা,  

সব বিরহভার বয়ে যেনো তার জীবনপাটের সরব নিস্তব্ধতা,

নিঃসঙ্গতার অলীক আলোর জোনাক সাধনায় ব্যস্ত থেকে--

ঘটো'পরে মা আমার শ্বেতপদ্মের মতো বসে থাকে সারাদিনই,

জীবনের লাশঘরে ফাকুন্দা পড়া কষ্ট  নিয়ে। 
—----



চাঁদ নয় কাস্তে


ইচ্ছে গুলো কাস্তের মতো ধারালো হওয়া চাই,

নয়তো  আকাশের ওই কাস্তের মতোই থেকে যাবে,

 বাস্তবের  নাগালের বাইরে,

ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে স্বপ্ন দেখা,  প্রাপ্তির সকল  ইচ্ছে ফসল।

বিছে পোকার ধারালো জিহবা খেয়ে নেবে সবুজ স্বপ্ন।

জোনাক পুচ্ছের আলোক ধাঁধায় কেটে যাবে সহস্র জনম, 

গোলা থেকে বেরুবে না তৃপ্তির 
স্বচ্ছ সাদা দাঁতের আলোকময় দিপ্তী, 

ভোঁতা কাঁচির সরল জৌলুস চিরদিন কেড়ে নেয়  কোলের নুন ভাত। 
--------------


ভাগ করে নাও


প্রহর গুনি  তোমার কথা শুনতে,
 সে কি তুমি বুঝোনা?

দ্বিধা লাগে,আমার খুব  দ্বিধা লাগে–
সে কথাটি বলতে। 

তুমি যে কার গোপন আকাশ শুধু জানতে চেয়ো না,

কথায় কথায় যদি আমার সকল কথার মানেই খোঁজো–


কি করে বলি? আমার অনেক কথার নেই কোনো মানে। 

একটু ভালোবেসে মন বাড়িয়ে কষ্টগুলো সব ভাগ করে নাও তুলে। 

----------


এতো রাগ করলে কি চলে?



এতো রাগ করলে চলে?
তুমি একা,আমি বহু।
নিজে নিজের মন যুগিয়ে চলো।

আমি উপেক্ষা করতে পারিনা-
লতা পাতা,ডাটা শেকড় কোন কিছুকে।

ওদের নিঃশ্বাস আমার মধ্য দিয়েই,
আমি জল হলে ওরা বাঁচে।
বাতাস হলেই দুলে। 

তুমি অনুকূল না হলে আমি আর আমাতেই থাকি না,
এতো রাগ করলে চলে?

--------

তোমার জন্যে--ডঃ তাপস কুমার সরকার

তোমার জন্যে--
ডঃ তাপস কুমার সরকার

তোমার জন্য 
লিখছি কিছু ভেবে নিওনা তুমি,
আমার লেখা তোমার কাছে জীবন থেকে দূরের।  
একটা কোকিল শিষ দেয় রোজ বাসন্তী সকালে;
একটা প্রহর জেগে থাকে তবু, শুধু তোমারই জন্য। 
একটা জীবন পড়তে পড়তেই বেলা গড়ায়-
প্রদীপের তেল আসে ফুরিয়ে। 
ভাদরের আদর মেঘে
সাঁঝ সকালে বাউল বাতাস আউল ছন্দে
যে সুর বাঁধে, তার গহীনে আমার কলম
ডুব দিয়ে খোঁজে ব্যর্থতার লয়। 
আপন ছন্দে তুমি
চরণরেখা ফেলে যাও ঘাসে ঘাসে 
কোন এক দীর্ঘশ্বাসে;
আলতা রাঙা পা ধোয়ায় ভোরের শিশির। 
চোখ কি কখনো মিথ্যে বলতে পারে ?
মুখোশ আজও ঢাকতে পারে নি চোখ। 
বলেছিলে, রাগ করা তোমার অধিকার ; তাই
রাগ ভাঙ্গানোর দায়িত্বটা  নাহয় আজ
থাকলো শুধুই আমার।


ভাবতরণী--সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

ভাবতরণী--
সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

প্রেমহীন সাজানো সংলাপে পৃথিবী কাঁদে,
অসীমা দুঃখ হৃদধমনীতে ধারণের সংকটে,
বিলাসী সম্পর্করা ক‍্যানভাসের শূন্য ডিগ্রীতে,
গাঢ়ত্ব যেন মরুভূমির মরীচিকা ডেকে আনে,
কৃত্রিম ভাবতরণী ভাসছে দেওয়ানেওয়ার ঘাটে,
সামান্য ফাটল প্রকাশিত সুগভীর গিরিখাতে,
অগ্নুৎপাতের আগুনে বন‍্যা খুশী লুটে নিচ্ছে,
নির্বিকল্প সমাধিতে অনুভূতির প্রতিটা রোমকূপ,
খেলা হবে,মেলা হবের সাময়িক উত্তেজনায়,
বার বার নিবিড় ক্লান্তির চরকা বুনতে বুনতে,
সমস্ত আয়ুষ্কাল শুষে নিচ্ছে এলোমেলো গতি,
গড়াভাঙা দেখতে দেখতে ভেঙে পড়া দৌড়,
অগুনতি বাঁচার জন্য সে তো জানা আছে,
রহস‍্যের জট খুলে একইরকম সরল বাঁচা,
শুধু জন্মমৃত‍্যুর ছক এঁকে এঁকে চলার পথে,
নুড়িপাথর সম্পর্কগুলো শত নামে ডাকে।
.............................................
*ফোন ও হোয়াটসআপ নম্বর-9674386270

স্মৃতি-হামিদুল ইসলাম

স্মৃতি-
হামিদুল ইসলাম
                              
নিঃশব্দতা ভাঙে পুতুল 
উঠোনে বাসি রাত
আকাশে সারি সারি মেঘ। সংসার ভাঙে গড়ে 
হতাশার সাগরজলে প্রতিদিন ডুবে যায় বেহুলা মান্দাস    ।।

জলে জলে ভাবনারা অঙ্কুরিত 
কাগজের নৌকোয় বিকিকিনি জীবন মরণ
আমরা ইতিহাস হই 
নবাবগঞ্জের হাটে ফেলে আসি কবিতার জন্মদিন 
কিঞ্জর উৎসব    ।।

ভোরের মিছিলে আজও সূর্য উদয় 
কৃষ্ণচূড়ায় ফিরোজা সকাল 
আমরা ঝড় জল নদী পেরিয়ে ফিরে আসি ভোঁকাট্টা কারখানায় 
শূন‍্য ট্রামলাইন 
জীর্ণ ছাদের টবে আমাদের স্বপ্নগুলো এখনো শুকোয়     ।।

ঘুঘু ডাকা দুপুর 
ক্লান্ত রোদ 
নির্জন পুকুর ঘাট। নগ্ন জলে ভাসে কবিতার ছবি 
আমি কবিতা হাতে নিয়ে দেখি আগুন। জ্বলন্ত উল্কা     ।।

পুড়ে যায় জীবন
ন‍্যাড়া বট। ছায়া ছায়া স্মৃতি। আমরাও ছায়া ছায়া উলঙ্গ স্মৃতি হয়ে উঠি খুব সহজেই    ।।
___________________
*গ্রাঃ+পোঃ=কুমারগঞ্জ। জেঃ=দক্ষিণ দিনাজপুর। মোঃ+হোঃ=8637316460।

রুষার তিনটি কবিতা--

রুষার তিনটি কবিতা--

শিউলি

কত বার ঢলে পড়তে পড়তে বেঁচে যাই প্রত্যাখ্যানের ভারে
আর কত আবছা পথ চলতে হবে...

ছেলেবেলার প্রেম...
রাতের পর রাত কালো কালি লেপে দিয়ে যায়।
কালি মেখে শুয়ে থাকি ভোরের জানালায়...
লাশের পর লাশ পেরিয়ে এগিয়ে যাই,
ঘর ছাপিয়ে দম বন্ধ বাতাস ঢুকতে থাকে।
ছেলেবেলার একমুঠো শিউলি ফুল...
দাদুর হাতে তোলা,
ভেসে আসতে থাকে আমার মৃতদেহের কান বেয়ে।
মাঝে হাজার শরীরের ব্যবধান
কোটি কোটি শরীর
কোটি কোটি মন পেরিয়ে ছেলেবেলার শিউলি ফুলের কাছে মাথা নত হয়ে আসে।

২-নিশাচর

ওই তারের উপর বসে থাকে পাখিটা
গোটা শহরকে দেখে চুপচাপ
হাজারো শব্দের সাক্ষী হয়ে বসে থাকে।
কত রাতের দীর্ঘশ্বাস, বোবা যন্ত্রণা, চেরা কান্না...
পাখিটা চুপচাপ শোনে
বোধ হয় হিসেব করে
ঠিক ভোরে চলে যায়।
অভিনয় শুরু হয়
 মঞ্চ সাজানো হয়...
উদ্দাম নৃত্য, সঙ্গীতের ভারে ভরে ওঠে শহরের বুক।
ঠিক রাতে পাখিটা ফিরে আসে...
শহর হালকা হয়।
ফিক করে হেসে সে উড়ে পালায়...
পড়ে থাকে মুখোশ।

৩-ওরা

অসম্পূর্ণ কবিতারা ভিড় করে করে আসে একে একে
ওরা স্রষ্টা কে খুঁজতে চায়,
আমি লুকোই 
তারা চেয়ে থাকে ড্যাবডেবিয়ে...
একে একে বানান ভুলতে থাকি
অসম্পূর্ণ শরীরে তারা চেয়ে থাকে...
ঠাণ্ডা চোখ।
বলতে চায় আমাকে কিছু হয়তো...
কিন্তু কি বলতে চায় আমি জানি।
ওরা চেয়ে থাকলে ঘুম পাড়িয়ে দিই।
ঘুমো...
 তোরা ঘুমো...

* রুষা
ঠিকানা - যাদবপুর

যাপন--শক্তিপ্রসাদ ঘোষ

যাপন--
শক্তিপ্রসাদ ঘোষ 

কথা মেঘ জমে আছে বসন্ত ঠোঁটে 
তথ্যচিত্রের মত জমে আছে
অসংখ্য পরিসংখ্যান 
গোলবাগান থেকে শুরু করে 
           শালবাগানের গলি পথ
পথের  আলপনা
জল রঙে আঁকা সাবলীল কথা
সোনালী রোদের দুপুর 
আলোকিত ক্যানভাস 
সাংকেতিক ভাষার আনাগোনা 
আটপৌরে ভালোবাসা 
ক্লান্ত মাঠে ফড়িং ধরা 
                          জীবনযাপন।

     --------- --------- --------

*শক্তিপ্রসাদ ঘোষ
রবীন্দ্রনগর,নিউটাউন 
কোচবিহার-৭৩৬১০১
মোঃ- ৯৭৩৩০১৭৭৪৯

সান্ত্বনা চ্যাটার্জির তিনটি কবিতা--

সান্ত্বনা চ্যাটার্জির তিনটি কবিতা--


আমি ফিরে যাই


আমি ফিরে যাই,
তুমিও থাকবে না দাঁডিয়ে,
মাঝ খানে শূণ্য হাহাকার
এক বুক দীর্ঘশ্বাস
কত কিছু গেল হারিয়ে।।

সময় চলে যাবে তার মত,
আজকের ভাঙ্গা হাটে
কাল নতুন বাজার।
আজ তোমার দৃষ্টি স্নাত
বৃষ্টি পড়েছে হাজার যার বুকে,
কাল সেকি ভিন্ন দুটি চোখের ছায়ায়,
থাকতে পারবে সুখে।

আমি ফিরে যাই,
যে পথে বিষন্নতা আছে ছেয়ে
মেঘের মতন।
সে পথে কবির লেখা
শেষের কবিতা।
সেখানে প্রেমের হয় শুরু,
দিন শেষ হয়ে গেলে আকাশে
মেঘের দল বেদনায় বাজে গুরু গুরু।।

এ পথের শুরু কই শেষ কোন খানে,
কেউ কি তা জানে !
তবু মাঝে মাধ্যে ফিরে আসি,
এ পথে ছড়ানো আছে হাসি ।
এ পথে হৃদয়ের যৌবন ধরা পড়ে,
হৃদয় মাতাল হলে সে মদিরা হাতে
ফিরে যাই ঘরে।।

শেষ অঙ্ক

বড়ই ধাঁধালো এই জীবনের অঙ্ক ,
মেলাতে মেলাতে দিন যায়।
এসেছি মৃত্যু হাতে, দুজনার মিলন তৃষায়।
কে তুমি একলা রাজ করো!
আপন ইচ্ছা মত ভাঙো আর গড়ো,
ব্রহ্মাণ্ডে অযুত নিযুত…
প্রাণে অপ্রাণে তোমার স্পর্শ ,
সে কি ভুল, কেবলই আমার কল্পনা।
প্রেমের বাসরে তুমি ইচ্ছা হয়ে দিয়েছিলে ধরা।
দুটি প্রাণ এক হয়ে কায়ায় মিলেছে।
পেয়েছে সুতীব্র এক কামের বেদনা,
সে আকাঙ্ক্ষা , সে তারের ঝঙ্কারে,দুজনার চরম মিলনসুখে
তুমি ছিলে মিশে।।
আপনি আশিস হয়ে ভ্রূণ হয়ে এলে,
সেদিন হে প্রিয় আমি পেয়েছি তোমায়
অসহনীয় প্রসব যন্ত্রনায়।
আমার সকল হয়ে জরায়ে রয়েছ মোরে
প্রেমে অপ্রেমে মিলনে বিচ্ছেদে,
শেষে অন্তিম শয্যায়।।
তবুও হে প্রিয়তম বুঝিনা কে যে তুমি আপন জঠরে ধরো
অখণ্ড ,অসীম, এক অনন্ত জ্যোতিঃ,
প্রকাশ তবুও হও আমার
খণ্ডিত আত্মায় ।।


অরূপ রতন


ছিলাম যখন অন্ধকারে,
ঝড়, বৃষ্টি, ঝঞ্ঝা চারিধারে ,
অন্ধজনের মতন বাড়িয়েছিলাম হাত ,
সঁপেছিলে অরূপরতন কেটে গেল দুঃস্বপ্নের রাত ।।
তোমার সে দান রেখেছিলাম হৃদয় মাঝে আঁচল দিয়ে ঢেকে ,
দুঃখ, কষ্ট যতই আসুক ,
হারাবনা আর কিছুতেই একে ।।
হৃদাকাশে মেঘ বৃষ্টি এখনও আসে যায়,
সূর্য থাকে তার জায়গায় ,
উদয় অস্তাচলে ।
মনের জমিতে নরম মাটি ,
কত লোকে আসে যায় , তোমার দয়ায়
তবুও সেখানে এখনও ফসল ফলে ।
চোখের তারায় আঁধার-আলো
খেলা করে যায় জীবন জুরে ,
মনের গভীর অন্তঃপুরে ,
বিশ্বাস আলো জ্বালে ।
সেই বিশ্বাস দানা বেঁধে আজ হয়েছে যে মহীরুহ,
বিরাট আকার বিশাল দৃঢ়তা শান্তির ছায়া ফেলে ।।

ধারালো এবং মসৃণ--আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস

ধারালো এবং মসৃণ--
আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস

আমি রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে আছি

কোন দিক থেকে একটা কুকুর ছুটে এসে আমাকে কামড়ে দিয়ে চলে গেল

উফ্, সঙ্গে সঙ্গে জায়গাটা আমার ব‍্যথা হল আর রক্ত ঝরতে লাগল

আমাকে এখন ভ‍্যাকসিন নিতে হবে
না হলে আমার জলাতঙ্ক রোগ হবে
আমি মারা যাব
আমার প্রিয়জনদের খুব কষ্ট হবে
তারা কান্না করবে

এত কিছু হবে সব জেনেও আমি কুকুরটাকে কিছু বললাম না, ছেড়ে দিলাম

কী বলব

সে তো একটা কুকুর
মানুষকে সে কামড়াতেই পারে
এ আর আশ্চর্য কী

কিন্তু কুকুর না হয়েই যে মানুষ এখন কুকুরের আচরণ করছে, কামড়াচ্ছে, ছিঁড়ে দিচ্ছে, তাড়া করছে
তাহলে তাদের মারব কীভাবে, কিছু বলব কীভাবে

তাদের দন্ত যে আরও বেশি ধারালো এবং মসৃণ;
---------------

আমি একটু বসতে পারি তোমার পাশে
আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস

আমি একটু বসতে পারি তোমার পাশে,
বৈকালি হাওয়ায় সবুজ ঘাসে?

নীচে নদী প্রবহমান
ক্ষতি কী, যদি ঘটে যায় কোন অঘটন;

তোমার বাদামি চুল আর নীল চোখ
শুষে নিতে পারে আমার সব শোক।

আমার যত কাতরতা যত আর্তনাদ,
তুমিই চেপে রাখতে পারো বুকের খাদ।

তোমাকে আমার মনে হয়েছে সেই নারী
তাইতো আমি তোমাকে নিয়ে এইসব কল্পনা করি।

আমি একটু বসতে পারি তোমার পাশে,
বৈকালি হাওয়ায় সবুজ ঘাসে?
                          ------------
*ঠিকানা:-আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস
গ্রাম+পোস্ট:-সারাংপুর খাসপাড়া,
থানা-ডোমকল,
জেলা-মুর্শিদাবাদ। পিন-৭৪২৩০৪।
মোবাইল ও হোয়াটস এ্যাপ:৯৯৩২০১৭৫৬৫।

অলভ্য ঘোষের দুটি কবিতা --

অলভ্য ঘোষের দুটি কবিতা --   

অ্যাসপারগারস সিনড্রোম                                             
কাল রাতে তুমি এলে
রোজ রাতের মত দীর্ঘ স্বপনে।
না সেতো স্বপ্ন নয়;আমি চোখ মেলে
চেয়েছিলাম। তোমার দীঘল
চোখের পাতা পড়েছিল দুইবার;
লিপস্টিক দেওয়া লাল ঠোঁট;
কেঁপেছিল কুড়ি থেকে গোলাপ
ফোটা পাপড়ির মত। 
সুরমার আইলাইনার।
রেখায় বাধা চোখে মণি দুটো
তোমার চঞ্চল এদিক ওদিক।
ছুট ছিল। আকাশের দিকে।
মাটির দিকে। 
অথচ তুমি আমার দিকে 
চাইতে পারছিলে না।
আতরের মত কোন পারফিউমের গন্ধে। 
আমি যেন সম্রাট শাহজাহানের মতো 
একটা গোলাপ ফুল হাতে
তাজমহলের অন্দর মহলে বুক পেতে
তোমার অপেক্ষা করছিলাম। আর তুমি
আমার মমতাজ আকাশের তারাদের ছেড়ে 
এই চাঁদনী রাতে এসেছ আমার সাক্ষাতে। 
বুকের ভিতর তোমার কপোত কপোতী 
বক বকম করছে। অথচ মুখে 
একটাও কথা পড়ছে না।
আমি চিবুক খানা তুলে ধরে 
আলতো ঠোঁটে ঠোঁট চুমতে গেলাম 
তুমি সরে গেলে দশ হাত।
মৃগয়ার হরিণীর মত। 
তোমার জরির পারের জেল্লা 
মহলের শিশা গুলো থেকে
আলো ঠিকরে এসে চিকচিক করে উঠলো। 
আর চিকচিক করে উঠলো আমার বুক।
মরুভূমির বালির উপর সূর্য কিরণের মতো!
তোমার কপালের ঝুলন্ত টিকলির মত; 
আমার হৃদপিন্ডটা যেন দুলছিল।
ডান দিক-বাম দিক পেন্ডুলামের মতো। 
তোমার পায়ের নুপুর ঝনাৎ করে উঠেছিল
যেভাবে। আমার বুকটাও মোচড় দিয়েছিল 
ঠিক একই রকম। পেছন থেকে তোমার কোমরে
দুটো হাত ছোঁয়ালাম। বুঝতে পারছিলাম
তোমার বুকটা কেঁপে কেঁপে উঠছে 
হাতের মুঠোয় বন্দী দুটি নিরীহ শশকের মতো। 
তোমার শরীরটা কাঁপতে কাঁপতে যেন
শক্ত আড়ষ্ট হয়ে আসছিল। আর আমার হাত দুটো
ততই তোমাকে আষ্টেপিষ্টে আমার বাহু বন্ধনে 
বেঁধে ফেলতে চাইছিল।
আমি মিশে যেতে চাইছিলাম 
তোমার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। দুটো প্রাণীর
অনুভূতির চরম সিক্ততার অনুরণন 
ছড়িয়ে কি পড় ছিলনা এই সুবিশাল আড়ম্বর ময় 
রাজমহলে। শূন্যে ভেসে আছি মনে হচ্ছিল। 
মসৃণ স্বচ্ছ আরশি গুলো নির্লজ্জের মতো 
আমাদের দেখছে কিনা;
সেদিকে খেয়াল ছিল না। ঝাড় বাতিটা 
মাথার উপর নিভিয়ে দিতে বললে যেন তুমি;
আলতো ঠোঁট আটকে আসা গলার বাঁকে। 
লজ্জা সব লজ্জাবতীর মতো আলোর সংসর্গে।
আমার বুকে প্রেমের চিতা নিভবে কেমন করে।
একি ওড়নার তলায় যখন দুজনে মিলে হলাম এক! 
আগুনে যেন ঘৃতাহুতি হল। শরীর ফুঁড়ে 
শরীর ঢুকে পড়ে;
বোঝার উপায় থাকে না কোনটা কার।
এত বড় সাম্যের পথ ছেড়ে
কে জানে কেন এই পৃথিবীতে
ভেদাভেদ আছে গেড়ে।
শজারুর মতো কাঁপতে কাঁপতে
নরম তুলতুলে স্তনও
কচ্ছপের খোলের মত শক্ত হয়।
সমস্ত সত্তারা সব
মিলনে অস্তিত্ব হারায়।
আমি তখন নিয়ন্ত্রণ রেখার বাইরে। 
স্খলিত হয়ে পড়লাম। 
বোবা চোখ বুজে এল ঘুমে।
তবু তুমি নিবিড় আমার বাহু পাশে।
সকালে ঘুম ভেঙ্গে উঠে দেখি;
আমার স্বপ্ন সহচরী হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
-যা!মিছে বানিয়ে বানিয়ে বলা।
তোর আমার এক দশকের ফারাক।
তুই যখন প্রথম পৃথিবীর আলো দেখছিস
আমি তখন অলকানন্দা স্কুলে ক্লাস থ্রিতে পড়ি।
তাতে কি নবীর যদি খাদিজা  হয়;
আমার মমতাজ চন্দ্রিমা হবে না কেন!
-সুন্নত!
কেন তুমি হেসে গড়িয়ে পড়ছ শুনে!
-প্রথম ভাগের সুন্নত সবার জন্য ওয়াজিব নয় 
দ্বিতীয় ভাগের সুন্নত গুলো প্রতিটি উম্মতের জন্য
 অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।নবীকে ফলো করতে গিয়ে
ফেল মারবি বুঝলি। তার চেয়ে
বরং সাইক্রিয়াটিস্ট দেখা।
হো হো করে হাসছো তুমি!
সকলের চোখ এড়িয়ে টিফিনের
অবসরে যে রাতের কাব্যালাপ।
তাজমহলের আরশি গুলোর মত 
অফিস ক্যান্টিনে সবাই
এখন চেয়ে আছে আমাদের টেবিলের দিকে। 
ঝাড়বাতির আলো যেমন মহলের শিশেদের ওপর 
প্রতিফলিত হয়ে ঠিকরে আসে। তেমনি 
তোমার উপেক্ষার হাসি সংক্রমিত করেছে
উপস্থিত সকলের হো-হো-করে হাসা 
ক্লোজআপ দাঁতের হাসিতে।
অমলেটটা  ন্যাতার মতো পড়ে প্লেটে। 
চা জুড়িয়ে জল।
ব্রিটিশ পিরিয়ডের ঢাউস ফেনটা 
মাথার উপর ঘট ঘট শব্দে ঘুরছে।
একটুও হাওয়া লাগছে না গায়ে।
কেবল একা আমি না সকলেই
মনো রোগীর মতো কোন না কোন
কাল্পনিক সম্পর্কে বাঁচে!

স্বমৈথুন

আত্মীয় বলতে কেউ নেই,
বন্ধু বলতে আর কেউ নেই,
ঘর বলতে ঘর নেই,
শহর বলতে শহর নেই,
দেশ বলতে দেশ নেই;
প্রেমিকা বলতে কেউ নেই।
অর্থ বলতে কিছু নেই,
অনর্থ হবারও ভয় নেই।
আমার জন্য আমি আছি 
একটা নিরেট আমি।
কোনও শুয়োরের বাচ্চার কাছে 
তা বেচতে পারবো না।
আমার আমি টাই সময়ে সময়ে 
আমার আত্মীয়,বাইরের  কারোসাথে 
রক্তের যোগাযোগ থাকলেও থাকতে পারে 
আত্মার যোগাযোগ নেই।
আমার আমি টাই অসময়ে বন্ধু বুকে টেনে নেয়;
বাকি সব স্বার্থপর।স্বার্থ ছাড়া কেউ নেই।
বাইরের ঘরটা অসাড় জেলখানা মনের ভেতর 
বহু কক্ষ সম্বলিত শান্ত সৌম্য নিরাপদ আমার 
একটা ঘর আছে।যার কোনও দেওয়াল নেই।
এই কংক্রিটের শহর  আমার নয়; আমার 
শহর আমার হৃদপিণ্ডটা ঘিরে আমারই পাঁজরে তৈরি।
আমার দেশ আমার স্বপ্নের ভেতরে মস্তিষ্ক জুড়ে।
ঘিলুর রাজত্ব একটা আধার আদর্শের।
আমি নিজেই আমার প্রেমিকা;
পথে পথে ঘুরি নিরন্তর কপোতের মত
বকবকুম বক করে কথা বলে চলি নিজের সাথে।
আত্মার সঞ্চয় ই আমার সঞ্চয়।
আত্ম জ্ঞান ছাড়া সবকিছুই নিরর্থক 
অর্থহীন আমার কাছে।
তাই স্বমৈথুন করে চলেছি নিজেকে।


*অলভ্য ঘোষ
৯৪৫ হরিদেবপুর নেতাজী পল্লী কলকাতা ৭০০০৮২
৯৩৩১৯৮২৬৭২



*অলভ্য ঘোষ
৯৪৫ হরিদেবপুর নেতাজী পল্লী কলকাতা ৭০০০৮২
৯৩৩১৯৮২৬৭২

প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি--সত্যজিৎ পাল

প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি--
সত্যজিৎ পাল

প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি জয়েনিং করবো
        পৌঁছালাম হেড অফিসের ঘরে।
এসি, লাইট  আর সাজানো দেখে
         মনটা একেবারেই গেল ভরে।

জয়েনিং লেটার হাতে পেলাম যখন
      নিয়ম গুলো শুনে নিলাম যেচে।
অফিস টাইম আর ছুটির সুবিধা শুনে
       আনন্দে মনটা উঠলো নেচে।

বাইক স্মার্টফোন অতি প্রয়োজন 
      ফর্মাল ড্রেস, সু অবশ্যই লাগবে।
কর্পোরেট চাকরির এটাই নিয়ম
      পোশাকেই নিজেদের পরিচয় দেবে।

অফিস শুরুর টাইমে থাকে করা নজর
        কাজটা পুষিয়ে নেবে তোমাকে খুঁজে।
কখন যে হবে অফিস ছুটি
         উঠতেই পারবে না বুঝে।

টার্গেট থাকবে আকাশ ছোঁয়া
     তবু পূরণ করা তোমার চাই।
প্রাইভেট কোম্পানির চাকরিতে তাই
     রবিবারেও তো ছুটি নাই।

অবসরে কখনো খুঁজে বের করে দেখি
    কোম্পানীর লেখা সুবিধা গুলোর কথা।
গালে হাত দিয়ে ভাবি আর বলি
      জীবনটাই হয়ে গেল বৃথা।

পোষাক পরিচ্ছদ দেখে অনেকেই ভাবে
     দারুণ বেতন, সুবিধাও সারি সারি।
বুক ফাটে, তবু মুখ ফুটে বলতে পারি না
     আমি, "প্রাইভেট কোম্পানির কর্মচারী"।

সুশান্ত সেনের কবিতা --

সুশান্ত সেনের কবিতা --

অপেক্ষা

অপেক্ষায় থাকি কখন সময় আসবে
কখন সে শেষ হাসি হাসবে
ভালোবাসবে ।

বন্দী

সময়ের জালে বন্দী
নানা অভিসন্ধি 
সব হয় ব্যর্থ
ঘটে অনর্থ ।

যদি

যদি চলে যেতে পারি দূরে
বীণা কি বেজে উঠবে অপরূপ সুরে ।


সুশান্ত সেন
৩২বি, শরৎ বসু রোড
কলিকাতা ৭০০০২০
৯৮৩০২৪২১৩৪

অর্ধ শতক ধরে হাঁটছে পথিক- চারু মান্নান

অর্ধ শতক ধরে হাঁটছে পথিক
- চারু মান্নান

বাংলার মৃত্তিকার প্রতি বর্গ ফুটে লুকিয়ে আছে
একাত্তরের জাতি সত্তার শহিদের মজ্জা,
করোটিতে গেঁথে আছে বুলেট, বেয়নেটের ক্ষত
রক্তমাখা বারুদের কঙ্কাল ফসিল।
নিত্য পথে হাঁটি,
ধুলোর বুক জুড়ে রক্ত মজ্জার রোশনাই ঝলমলিয়ে গেয়ে উঠে
মুক্তির গান; উজ্জীবিত হয়, আমার সোনার বাংলা।
পদতল থমকে যায় মুক্তির অনাহারে, স্বপ্ন বিলাপ
দূর আকাশে আশার প্রদীপ জ্বালায়।
এই যে, অর্ধ শতক ধরে হাঁটছে পথিক
আমিও তাদের দলে; সাতকাহনে শহিদ জননীরা আজও কাঁদে
মুক্তির মিছিলে ঝকঝকে সূর্যির আশায়
স্বপ্ন বুননে আমার সোনার বাংলা।
১৪২৮/হেমন্তকাল/ অগ্রহায়ণ।

আলোর পথ--রূপা বাড়ৈ

আলোর পথ--             
রূপা বাড়ৈ          

হে ক্ষণিকের অতিথি, 
মনটা তোমার কেন বিষন্নতায় ভরে
কেন না পাওয়ার ভাবনায় থাকো পড়ে,
কেনই বা হৃদয় পোড়াও তুষের অনলে
কেনই বা থাকো কারো পথ আগলে।

তুমি কি জানো না মানব জন্ম ক্ষণস্থায়ী
এসেছো একা আবার চলে যাবে একাকী,
তবে কেন মিছে মায়ায় জড়াও নিজেকে
হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা দিও বিলিয়ে।

তুমি কি জানো না তুমি আছো স্বার্থপুরে
সবার প্রয়োজনে দ্বীপ জ্বালাও মন পুড়ে,
তবে কেন নিঃস্ব হও সর্বস্ব উজাড় করে
কেনই বা কষ্ট লুকাও জীবন্ত লাশের অন্তপুরে।

হে পথ ভোলা পথিক,
তোমায় বলছি করজোড়ে, উঠে এসো মৃতপথ ছেড়ে
দৃষ্টি মেলে তাকাও উর্ধ্বে দেখো ঐ রক্তিম সূর্য'টাকে,
নববরষে নবসাজে শক্তিময় সূর্য ঝলমল করছে
জ্বলন্ত মশাল হাতে তুলে এগিয়ে যাও আলোর পথে।

দেবত্রয়ী হালদারের তিনটি কবিতা--

দেবত্রয়ী হালদারের তিনটি কবিতা--

 শীতের সকাল

কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে সহসাই শীতের সোনালি সকাল
রবি কর কুয়াশার মায়াজাল ছিন্ন করে জেগেছে দিগন্তে ঝলমল। 
পল্লীর পথে মেয়ে, আসে নেয়ে  ভিজে চুল লুন্ঠিত পিঠে
উত্তরে বায়ু বহে, বক্ষে কাঁপন ধরে, রোদ্দুর লাগে তাই মিঠে। 
উঠোনেতে বসে আছে এক ক্ষীণকায়, থুরথুরে বুড়ি
মাথা ঢুলে পড়ে বুকে, রৌদ্র পোহায় সুখে, জীর্ণ কাঁথাটা দিয়ে মুড়ি। 
ভিজিয়ে গিয়েছে শিশিরে তৃণলতার ডগায় ডগায়
প্রাণ যেন ফিরে পেলো আবার পদদলিত সে পথের দূর্বায়।
গ্ৰামীণ ঘরে পিঠার উৎসব শীতের আমেজ নিয়ে
বাগান জুড়ে ফুটেছে ফুল শীতের ছোঁয়া পেয়ে। 
খেজুর গাছে পাতানো হাড়ি রসে রসে গেছে ভরে
রসিয়া যায় ছুটে তার হয়েছে কাঁধ ভারী, দুহাতে তার ভার ধরে। 
গ্ৰামের কিছু দুরন্ত ছেলে ছোটাছুটি করে কাকভোরে 
বাড়ি থেকে বেরোয় দলবলে শরীরচর্চার নাম করে। 
গ্ৰামের কিছু মানুষ হাত পা সেঁকে আগুন জ্বেলে
কী বিচিত্রময় সৌন্দর্যের চিত্র মোদের শীতের সকালে।। 
                 --------------
             ---মুক্তির আশা---
আমরা আবারও হব মুক্ত মহামারী শেষে
আমরা আবারও মিলব,জিতে ফিরে এসে। 
দেখা হবে আমাদের আগের মতো করে
নিদারুণ বিচিত্রময় এই সুস্থ, সুখের শহরে। 
মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে
এই অতি ক্ষুদ্র জীব, করোনার কারণে। 
মরণের শেষে আপনজন পারবেনা ছুঁতে
এ কেমন মরণ ফাঁদ পেতেছো সবাকার ঘরেতে?
বিশ্ববাসীকে মৃত্যু দিয়ে ভেবেছো করবে বিশ্বজয়?
মহামারী করোনা, এ তোমার সাধ্যি নয়। 
অপেক্ষায় আছি, কবে আসবে সেই ভোর
চোখ মেলে দেখবো থেমে গেছে তোমার তাণ্ডবের ঝড়। 
দেখবে চেয়ে বিশ্ববাসী পাশেই আছে আপনজন
আদর করবে বুকে টেনে, এঁকে দেবে কপালে চুম্বন। 
করবো আমরা ভয়কে জয়, পাব ফিরে মুক্তির স্বাদ
ঘুচবে হাজার কষ্ট-জ্বালা, আসবে মোদের আহ্লাদ।। 
                --------------
                ---সুখ পাখি---
বলছি বাড়িতে কেউ আছো নাকি? 
বললাম কে তুমি করছো ডাকাডাকি? 
বলল, সব দুঃখকে হরণ করে যে আমি সেই সুখ পাখি
মৃদু হেসে বললাম, আমি কি আর কখনো হতে পারবো সুখী? 
সে চিৎকার করে বলল, আগে দরজাটা খোলো দেখি
কি হবে দরজা খুলে? সেই তো চলে যাবে দিয়ে আমাকে ফাঁকি। 
কখন থেকে তোমাকে ডাকছি, এতক্ষণ ঘুমাচ্ছিলে বুঝি? 
কত রাত অনিদ্রায় কেটেছে, এখন অনিদ্রিত ঘুমে নিজেকে খুঁজি। 
ছাড়ো যত দুঃখের কথা, আমার ওসব সহ্য হয়না
আমি যে দুঃখের সঙ্গী, সুখকেও আমি বিশ্বাস করতে পারিনা। 
সুখের বসন্তে রাঙাতে এসেছি তোমায় আমার সঙ্গে চলো
দুঃখের চাদরে মোড়া জীবনকে বসন্তের সুখের কথা কেমনে বলো? 
দুঃখ তোমায় ছুঁতে পারবে না আর, আনব জীবনে সুখের জোয়ার
ঠিক বলছো তুমি? কথা দিচ্ছো সারাজীবন থেকে যাওয়ার? 
হঠাৎ কিছু বিকৃত শব্দে ঘুমটা ভেঙে দোলা দিল মনে
এতক্ষণের এত সুখের ছোঁয়া সবই ঘটলো আমার স্বপ্নে? 
                    ------------

মৃত্যু --- শান্তা মিএ

মৃত্যু --- শান্তা মিএ এ পোড়া দেশে মোরা মরি আর মরি। অসুকে মরি দারিদ্র্যের তাড়নায় মরি  অ্যাক্সিডেন্টে মরি অমিক্রণ করোনা নামক ভিন্...