Saturday, 12 March 2022

মৃত্যু --- শান্তা মিএ

মৃত্যু --- শান্তা মিএ

এ পোড়া দেশে মোরা মরি আর মরি।
অসুকে মরি দারিদ্র্যের তাড়নায় মরি 
অ্যাক্সিডেন্টে মরি অমিক্রণ করোনা নামক ভিন্ন ভেরিয়েন্টে মরি,
বিভিন্ন  ঝড়ের দাপটে মরি,
খাবারের জোগাড়ের জন্য মরি।
ছলনা চিটিং এ মরি আত্মহত্যায় মরি....
নিজের মধ্যে নিজেই মরি মনে মনে মরি,
ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য মরি,
লোকের ভালো দেখে মরি হিংসায় জ্বলে পুড়ে  মরি।
ভালোবাসার জন্য মরি ভালোবেসে মরি....
নানা  অশান্তিতে শুধুই মরি কেনইবা মরি কিসের  জন্য ..... কেন এমরণ বলতে পারো!!
টিকা ওষুধ যোগা এসব তো বাঁচার জন্য।
সত্যি কি বাঁচি আমরা...নাকি বাঁচার জন্য  শুধু বাঁচি......!

Sunday, 6 March 2022

জীবন-- সন্ধ্যা রায়

জীবন 
সন্ধ্যা রায়

জীবন তুমি দিয়েছ অনেক--
আর একটা বছর পার হল 
কোথাও আমায় উপেক্ষা 
কোথাও আমার অপেক্ষা।
জীবন তুমি দিয়েছ অনেক--
বছরের শেষ রজনী তুমি দিলে
কত আশা আকাঙ্খা ছেড়ে এলাম 
কত জন মিলেছে কত জন ভুলেও গেছে 
কেউ বা খুশি তে জড়িয়ে ধরেছে।
জীবন তুমি দিয়েছ অনেক--
কত স্মৃতির মিলন এ জীবনে 
কত না পাওয়ায় কেঁদেছি এক কোণে 
কেউ বা ভালোবেস কেউ বা রেগে
কেউ বা  জাড়ালো আবেগে।
জীবন তুমি দিয়েছ অনেক-- 
কেউ বা চেনা কেউ বা অচেনা 
কেউ তো আবার চিনেও চেনে না।
কিছু ঠিক কিছু ভুলও করেছি
কিছু সুখ কিছু দুঃখ দিয়েছি,
মাফ কর আজ ভুল যা করেছি,
হিসেবের খাতায় সবই পেয়েছি,
জীবন তুমি দিয়েছ অনেক।।

কোদাল নাও--অদিতি ঘটক

কোদাল নাও--
অদিতি ঘটক

ওরা অনেক বার এসেছে 
মুখোশ পরে, মুখোশ খুলে
 নরমে, গরমে একটাই কথা বলেছে
আমি ওদের বলেছি, সম্ভব নয়
আমি পারব না 
যুদ্ধ করতে
আমার ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ করতে।
ওরা বলেছে, শিখিয়ে দেব
আমরাও আগে অপটু ছিলাম।
বলেছি, করে লাভ ?
বলেছিল ভালো সময় কাটে 
সুন্দর নেশা হয়
বলেছি, এর থেকে ভাতঘুম আমার ঢের জরুরি
আর এটাই একমাত্র উৎকৃষ্ট নেশা
 ওরা অবাক হয়ে আমার দিকে চেয়েছিল
 তারপর জানলার দিকে চেয়ে
 ফুটিফাটা মাঠটা দেখে চোখের জল ফেলছিল
ওদের ভারী বুট আর বন্ধুকের বাট ঠোকাঠুকি বন্ধ করে দিয়েছিল
এগিয়ে গিয়ে ওদের কাঁধে হাত রেখে
কানে কানে বলেছি---
 কোদাল নাও। 
তোমার ছায়াও নেবে। 

###################

তাপসকিরণ রায়ের কবিতা --


তাপসকিরণ রায়ের কবিতা --

ডাল ভাত 

আমি ডাল ভাত খেয়ে বড় হলাম

এবং একদিন ডাল ভাত খেতে খেতে…

এবং আমার মত কোটি কোটি 

মানুষগুলি ঠিক এমনি ভাবে 

জীবনের শেষ অংক পার করে গেল... এবং তুমি সে পৃষ্ঠা সরিয়ে রাখলে, নেহাত কলমের দু'খোঁচায় 

লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনীএঁকে দিলে।  শেষ, ওরা ডাল ভাত খেয়ে চলে গেল..   

আর কিছু লেখা নেই, 

দুটো দাড়িচিহ্নে শেষ হল-- 

সভ্যতার সিংহভাগ।


কুয়াশা সরিয়ে যাচ্ছি


কুয়াশা সরে গিয়ে 

অন্য আর একটা দৃশ্যের অপেক্ষায় ছিলাম।

তোমার শরীরান্তর থেকে ভ্যানিশ ম্যাজিকের আরম্ভ হয়েছিল l

রহস্য এখান থেকেই শুরু--

একটা সত্ত্বা কিলবিলিয়ে উঠলো

আর আমি তোমায় পাবার অপেক্ষায় কুয়াশা সরিয়ে যাচ্ছি, আর সরিয়ে যাচ্ছি…


অ্যালবামের বাইরে


একটা ক্লিক এ ক্যামেরা জীবন 

একটা বন্দিজীবন ও ক্যামেরা জীবন দুচোখ কতবার মিলেছিল, 

সংখ্যায়িত সে সব দৃশ্যপট, স্নাপের এপিঠ-ওপিঠ।

ছায়াহীন ছবিহীন কবিতার ঘেরে-- তুমি আমি প্রতিদিনের ঘুম ও রাত জাগা,

ভাসাভাসা চেহারার টানে, 

শব্দহীন ছন্দ, দুর্দান্ত একটা জীবন,

কত তাড়াতাড়ি সরে যায়, 

সুখের সাগরে বারবার পা পিছল ছলাত, 

অ্যালবামের বাইরে

এক দীর্ঘ জীবন থেকে গেছে।


সীমা ব্যানার্জী রায় --ফড়িং ডানা...

সীমা ব্যানার্জী রায় --
ফড়িং ডানা...

শোনো! আজ লিখি তোমায় ...
আমার জানলার বাইরে যে 
ক্যামেলিয়া ফুলের গাছটা...
তাতে কুঁড়ি ধরেছে আনমনে
বরফ রঙের রোদে ডানা ভাসিয়ে 
দুটো ফড়িং শুধু ভালোবাসাবাসি
করে দিনভোর।

তাই গোপনে জানাই...
আমার আনমনা চেয়ে থাকা 
জানলার বাইরে দিয়ে...
বাতাস বয়ে যায়,
ভালবাসার গন্ধ নিয়ে।

এ কোনো উপমা নয়
চাইনিও মেলাতে আমি
শীত তো শোনে না কারো কথা 
মাটিতেই পুঁতে রাখে নিজস্ব নীরবতা
চিন্তা শুধু কফি কিংবা চায়ে।

আমার ভাবনারা ছুটে বেড়ায়...
কিশোরী নদীর মতো বিস্মৃতির স্রোতে 
একদিন আমিও ফড়িং ডানায়...
একদিন আমিও বরফ রোদে-
গা ভাসাবো তোমার দিকে চেয়ে ।

শেষে লিখি তোমায়...
তুমি ভয় পেয়ো না,
আমি বহু দূরে আছি...
শুধু একবার বলো,
তুমি আমাকেই ভালবাসো।
সত্যি বলছি নির্ভয়, কোনদিন আর
কিছু চাইব না...

কবিতা কখন আসবে তুমি?--তমা কর্মকার

কবিতা কখন আসবে তুমি?--
তমা কর্মকার

কখন আসবে তুমি ফিরে?
চলে যাওয়া পথ ধরে|
আমি যে আজও তোমার,
ফিরে আসার অপেক্ষায়|
মনে করে দেখো তুমি,
তোমার চলে যাবার পরে?
কেটে গেছে কত কাল?
ফুলের রঙে সেজেছে কত
প্রাণ প্ৰিয় রঙিন বসন্ত |
আমি  বসন্তের কোকিলের মতো
আজও করছি তোমার অপেক্ষা|
জানি ভুল ভেঙে গেলে?
তুমি দিশাহীন ভাবে খুঁজবে,
আমায় তোমার মনের অন্তরালে|
তাইতো তোমায় ছেড়ে আমিও
যেতে পারিনা অন্য কোথাও|

বহ্নি শিখার(ঊষা দত্ত) গুচ্ছ কবিতা --

বহ্নি শিখার(ঊষা দত্ত) গুচ্ছ কবিতা --

নাই বা হলো'

ঘুমিয়ে পড়,নিভে গেছে,রাতের আলো,।

নেমেছে জোনাকির ঝাঁক,

সাগরের মুখ গহ্বর থেকে ছোঁয়ে যাক-
জিভের ডগায় রুপোলী বালুকা বেলা। 

ঢেউয়ে ঢেউয়েই পেরিয়ে যাক,তাবৎ

দিনের ঘর্মাক্ত কলেবর হতে বাষ্প,

 মিলিয়ে  যাক দিগন্তে,না বলা কথারা, 

না-ই-বা হলো শব্দের বর্ণের মিলন। 

 না হোক ধোঁয়ার কুন্ডলীর মতো উর্ধগামী স্বপ্ন পূরণ,

অনুভবে সতেজ  শিরাগুলো  টান টান, 

নিভৃত রাত্রির গায়ে জ্বলে থাকুক 
স্বর্ণালী তারাদের অহংকার। 
—---

জ্যান্ত লাশ ঘর

অবশেষে নীলাকাশটা ধুসর শূন্যতা নিয়ে সাগরের সাদা বুক--

খা খা রোদ্দুরে মিশে গিয়ে  দিগন্তে 
ফসল শূন্য এক উদাসী বক, 

নিভে যাওয়া সূর্যের আকাশ ফ্যাকাসে শরীরে চুপ করে একা,  

সব বিরহভার বয়ে যেনো তার জীবনপাটের সরব নিস্তব্ধতা,

নিঃসঙ্গতার অলীক আলোর জোনাক সাধনায় ব্যস্ত থেকে--

ঘটো'পরে মা আমার শ্বেতপদ্মের মতো বসে থাকে সারাদিনই,

জীবনের লাশঘরে ফাকুন্দা পড়া কষ্ট  নিয়ে। 
—----



চাঁদ নয় কাস্তে


ইচ্ছে গুলো কাস্তের মতো ধারালো হওয়া চাই,

নয়তো  আকাশের ওই কাস্তের মতোই থেকে যাবে,

 বাস্তবের  নাগালের বাইরে,

ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে স্বপ্ন দেখা,  প্রাপ্তির সকল  ইচ্ছে ফসল।

বিছে পোকার ধারালো জিহবা খেয়ে নেবে সবুজ স্বপ্ন।

জোনাক পুচ্ছের আলোক ধাঁধায় কেটে যাবে সহস্র জনম, 

গোলা থেকে বেরুবে না তৃপ্তির 
স্বচ্ছ সাদা দাঁতের আলোকময় দিপ্তী, 

ভোঁতা কাঁচির সরল জৌলুস চিরদিন কেড়ে নেয়  কোলের নুন ভাত। 
--------------


ভাগ করে নাও


প্রহর গুনি  তোমার কথা শুনতে,
 সে কি তুমি বুঝোনা?

দ্বিধা লাগে,আমার খুব  দ্বিধা লাগে–
সে কথাটি বলতে। 

তুমি যে কার গোপন আকাশ শুধু জানতে চেয়ো না,

কথায় কথায় যদি আমার সকল কথার মানেই খোঁজো–


কি করে বলি? আমার অনেক কথার নেই কোনো মানে। 

একটু ভালোবেসে মন বাড়িয়ে কষ্টগুলো সব ভাগ করে নাও তুলে। 

----------


এতো রাগ করলে কি চলে?



এতো রাগ করলে চলে?
তুমি একা,আমি বহু।
নিজে নিজের মন যুগিয়ে চলো।

আমি উপেক্ষা করতে পারিনা-
লতা পাতা,ডাটা শেকড় কোন কিছুকে।

ওদের নিঃশ্বাস আমার মধ্য দিয়েই,
আমি জল হলে ওরা বাঁচে।
বাতাস হলেই দুলে। 

তুমি অনুকূল না হলে আমি আর আমাতেই থাকি না,
এতো রাগ করলে চলে?

--------

তোমার জন্যে--ডঃ তাপস কুমার সরকার

তোমার জন্যে--
ডঃ তাপস কুমার সরকার

তোমার জন্য 
লিখছি কিছু ভেবে নিওনা তুমি,
আমার লেখা তোমার কাছে জীবন থেকে দূরের।  
একটা কোকিল শিষ দেয় রোজ বাসন্তী সকালে;
একটা প্রহর জেগে থাকে তবু, শুধু তোমারই জন্য। 
একটা জীবন পড়তে পড়তেই বেলা গড়ায়-
প্রদীপের তেল আসে ফুরিয়ে। 
ভাদরের আদর মেঘে
সাঁঝ সকালে বাউল বাতাস আউল ছন্দে
যে সুর বাঁধে, তার গহীনে আমার কলম
ডুব দিয়ে খোঁজে ব্যর্থতার লয়। 
আপন ছন্দে তুমি
চরণরেখা ফেলে যাও ঘাসে ঘাসে 
কোন এক দীর্ঘশ্বাসে;
আলতা রাঙা পা ধোয়ায় ভোরের শিশির। 
চোখ কি কখনো মিথ্যে বলতে পারে ?
মুখোশ আজও ঢাকতে পারে নি চোখ। 
বলেছিলে, রাগ করা তোমার অধিকার ; তাই
রাগ ভাঙ্গানোর দায়িত্বটা  নাহয় আজ
থাকলো শুধুই আমার।


ভাবতরণী--সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

ভাবতরণী--
সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

প্রেমহীন সাজানো সংলাপে পৃথিবী কাঁদে,
অসীমা দুঃখ হৃদধমনীতে ধারণের সংকটে,
বিলাসী সম্পর্করা ক‍্যানভাসের শূন্য ডিগ্রীতে,
গাঢ়ত্ব যেন মরুভূমির মরীচিকা ডেকে আনে,
কৃত্রিম ভাবতরণী ভাসছে দেওয়ানেওয়ার ঘাটে,
সামান্য ফাটল প্রকাশিত সুগভীর গিরিখাতে,
অগ্নুৎপাতের আগুনে বন‍্যা খুশী লুটে নিচ্ছে,
নির্বিকল্প সমাধিতে অনুভূতির প্রতিটা রোমকূপ,
খেলা হবে,মেলা হবের সাময়িক উত্তেজনায়,
বার বার নিবিড় ক্লান্তির চরকা বুনতে বুনতে,
সমস্ত আয়ুষ্কাল শুষে নিচ্ছে এলোমেলো গতি,
গড়াভাঙা দেখতে দেখতে ভেঙে পড়া দৌড়,
অগুনতি বাঁচার জন্য সে তো জানা আছে,
রহস‍্যের জট খুলে একইরকম সরল বাঁচা,
শুধু জন্মমৃত‍্যুর ছক এঁকে এঁকে চলার পথে,
নুড়িপাথর সম্পর্কগুলো শত নামে ডাকে।
.............................................
*ফোন ও হোয়াটসআপ নম্বর-9674386270

স্মৃতি-হামিদুল ইসলাম

স্মৃতি-
হামিদুল ইসলাম
                              
নিঃশব্দতা ভাঙে পুতুল 
উঠোনে বাসি রাত
আকাশে সারি সারি মেঘ। সংসার ভাঙে গড়ে 
হতাশার সাগরজলে প্রতিদিন ডুবে যায় বেহুলা মান্দাস    ।।

জলে জলে ভাবনারা অঙ্কুরিত 
কাগজের নৌকোয় বিকিকিনি জীবন মরণ
আমরা ইতিহাস হই 
নবাবগঞ্জের হাটে ফেলে আসি কবিতার জন্মদিন 
কিঞ্জর উৎসব    ।।

ভোরের মিছিলে আজও সূর্য উদয় 
কৃষ্ণচূড়ায় ফিরোজা সকাল 
আমরা ঝড় জল নদী পেরিয়ে ফিরে আসি ভোঁকাট্টা কারখানায় 
শূন‍্য ট্রামলাইন 
জীর্ণ ছাদের টবে আমাদের স্বপ্নগুলো এখনো শুকোয়     ।।

ঘুঘু ডাকা দুপুর 
ক্লান্ত রোদ 
নির্জন পুকুর ঘাট। নগ্ন জলে ভাসে কবিতার ছবি 
আমি কবিতা হাতে নিয়ে দেখি আগুন। জ্বলন্ত উল্কা     ।।

পুড়ে যায় জীবন
ন‍্যাড়া বট। ছায়া ছায়া স্মৃতি। আমরাও ছায়া ছায়া উলঙ্গ স্মৃতি হয়ে উঠি খুব সহজেই    ।।
___________________
*গ্রাঃ+পোঃ=কুমারগঞ্জ। জেঃ=দক্ষিণ দিনাজপুর। মোঃ+হোঃ=8637316460।

রুষার তিনটি কবিতা--

রুষার তিনটি কবিতা--

শিউলি

কত বার ঢলে পড়তে পড়তে বেঁচে যাই প্রত্যাখ্যানের ভারে
আর কত আবছা পথ চলতে হবে...

ছেলেবেলার প্রেম...
রাতের পর রাত কালো কালি লেপে দিয়ে যায়।
কালি মেখে শুয়ে থাকি ভোরের জানালায়...
লাশের পর লাশ পেরিয়ে এগিয়ে যাই,
ঘর ছাপিয়ে দম বন্ধ বাতাস ঢুকতে থাকে।
ছেলেবেলার একমুঠো শিউলি ফুল...
দাদুর হাতে তোলা,
ভেসে আসতে থাকে আমার মৃতদেহের কান বেয়ে।
মাঝে হাজার শরীরের ব্যবধান
কোটি কোটি শরীর
কোটি কোটি মন পেরিয়ে ছেলেবেলার শিউলি ফুলের কাছে মাথা নত হয়ে আসে।

২-নিশাচর

ওই তারের উপর বসে থাকে পাখিটা
গোটা শহরকে দেখে চুপচাপ
হাজারো শব্দের সাক্ষী হয়ে বসে থাকে।
কত রাতের দীর্ঘশ্বাস, বোবা যন্ত্রণা, চেরা কান্না...
পাখিটা চুপচাপ শোনে
বোধ হয় হিসেব করে
ঠিক ভোরে চলে যায়।
অভিনয় শুরু হয়
 মঞ্চ সাজানো হয়...
উদ্দাম নৃত্য, সঙ্গীতের ভারে ভরে ওঠে শহরের বুক।
ঠিক রাতে পাখিটা ফিরে আসে...
শহর হালকা হয়।
ফিক করে হেসে সে উড়ে পালায়...
পড়ে থাকে মুখোশ।

৩-ওরা

অসম্পূর্ণ কবিতারা ভিড় করে করে আসে একে একে
ওরা স্রষ্টা কে খুঁজতে চায়,
আমি লুকোই 
তারা চেয়ে থাকে ড্যাবডেবিয়ে...
একে একে বানান ভুলতে থাকি
অসম্পূর্ণ শরীরে তারা চেয়ে থাকে...
ঠাণ্ডা চোখ।
বলতে চায় আমাকে কিছু হয়তো...
কিন্তু কি বলতে চায় আমি জানি।
ওরা চেয়ে থাকলে ঘুম পাড়িয়ে দিই।
ঘুমো...
 তোরা ঘুমো...

* রুষা
ঠিকানা - যাদবপুর

যাপন--শক্তিপ্রসাদ ঘোষ

যাপন--
শক্তিপ্রসাদ ঘোষ 

কথা মেঘ জমে আছে বসন্ত ঠোঁটে 
তথ্যচিত্রের মত জমে আছে
অসংখ্য পরিসংখ্যান 
গোলবাগান থেকে শুরু করে 
           শালবাগানের গলি পথ
পথের  আলপনা
জল রঙে আঁকা সাবলীল কথা
সোনালী রোদের দুপুর 
আলোকিত ক্যানভাস 
সাংকেতিক ভাষার আনাগোনা 
আটপৌরে ভালোবাসা 
ক্লান্ত মাঠে ফড়িং ধরা 
                          জীবনযাপন।

     --------- --------- --------

*শক্তিপ্রসাদ ঘোষ
রবীন্দ্রনগর,নিউটাউন 
কোচবিহার-৭৩৬১০১
মোঃ- ৯৭৩৩০১৭৭৪৯

সান্ত্বনা চ্যাটার্জির তিনটি কবিতা--

সান্ত্বনা চ্যাটার্জির তিনটি কবিতা--


আমি ফিরে যাই


আমি ফিরে যাই,
তুমিও থাকবে না দাঁডিয়ে,
মাঝ খানে শূণ্য হাহাকার
এক বুক দীর্ঘশ্বাস
কত কিছু গেল হারিয়ে।।

সময় চলে যাবে তার মত,
আজকের ভাঙ্গা হাটে
কাল নতুন বাজার।
আজ তোমার দৃষ্টি স্নাত
বৃষ্টি পড়েছে হাজার যার বুকে,
কাল সেকি ভিন্ন দুটি চোখের ছায়ায়,
থাকতে পারবে সুখে।

আমি ফিরে যাই,
যে পথে বিষন্নতা আছে ছেয়ে
মেঘের মতন।
সে পথে কবির লেখা
শেষের কবিতা।
সেখানে প্রেমের হয় শুরু,
দিন শেষ হয়ে গেলে আকাশে
মেঘের দল বেদনায় বাজে গুরু গুরু।।

এ পথের শুরু কই শেষ কোন খানে,
কেউ কি তা জানে !
তবু মাঝে মাধ্যে ফিরে আসি,
এ পথে ছড়ানো আছে হাসি ।
এ পথে হৃদয়ের যৌবন ধরা পড়ে,
হৃদয় মাতাল হলে সে মদিরা হাতে
ফিরে যাই ঘরে।।

শেষ অঙ্ক

বড়ই ধাঁধালো এই জীবনের অঙ্ক ,
মেলাতে মেলাতে দিন যায়।
এসেছি মৃত্যু হাতে, দুজনার মিলন তৃষায়।
কে তুমি একলা রাজ করো!
আপন ইচ্ছা মত ভাঙো আর গড়ো,
ব্রহ্মাণ্ডে অযুত নিযুত…
প্রাণে অপ্রাণে তোমার স্পর্শ ,
সে কি ভুল, কেবলই আমার কল্পনা।
প্রেমের বাসরে তুমি ইচ্ছা হয়ে দিয়েছিলে ধরা।
দুটি প্রাণ এক হয়ে কায়ায় মিলেছে।
পেয়েছে সুতীব্র এক কামের বেদনা,
সে আকাঙ্ক্ষা , সে তারের ঝঙ্কারে,দুজনার চরম মিলনসুখে
তুমি ছিলে মিশে।।
আপনি আশিস হয়ে ভ্রূণ হয়ে এলে,
সেদিন হে প্রিয় আমি পেয়েছি তোমায়
অসহনীয় প্রসব যন্ত্রনায়।
আমার সকল হয়ে জরায়ে রয়েছ মোরে
প্রেমে অপ্রেমে মিলনে বিচ্ছেদে,
শেষে অন্তিম শয্যায়।।
তবুও হে প্রিয়তম বুঝিনা কে যে তুমি আপন জঠরে ধরো
অখণ্ড ,অসীম, এক অনন্ত জ্যোতিঃ,
প্রকাশ তবুও হও আমার
খণ্ডিত আত্মায় ।।


অরূপ রতন


ছিলাম যখন অন্ধকারে,
ঝড়, বৃষ্টি, ঝঞ্ঝা চারিধারে ,
অন্ধজনের মতন বাড়িয়েছিলাম হাত ,
সঁপেছিলে অরূপরতন কেটে গেল দুঃস্বপ্নের রাত ।।
তোমার সে দান রেখেছিলাম হৃদয় মাঝে আঁচল দিয়ে ঢেকে ,
দুঃখ, কষ্ট যতই আসুক ,
হারাবনা আর কিছুতেই একে ।।
হৃদাকাশে মেঘ বৃষ্টি এখনও আসে যায়,
সূর্য থাকে তার জায়গায় ,
উদয় অস্তাচলে ।
মনের জমিতে নরম মাটি ,
কত লোকে আসে যায় , তোমার দয়ায়
তবুও সেখানে এখনও ফসল ফলে ।
চোখের তারায় আঁধার-আলো
খেলা করে যায় জীবন জুরে ,
মনের গভীর অন্তঃপুরে ,
বিশ্বাস আলো জ্বালে ।
সেই বিশ্বাস দানা বেঁধে আজ হয়েছে যে মহীরুহ,
বিরাট আকার বিশাল দৃঢ়তা শান্তির ছায়া ফেলে ।।

ধারালো এবং মসৃণ--আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস

ধারালো এবং মসৃণ--
আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস

আমি রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে আছি

কোন দিক থেকে একটা কুকুর ছুটে এসে আমাকে কামড়ে দিয়ে চলে গেল

উফ্, সঙ্গে সঙ্গে জায়গাটা আমার ব‍্যথা হল আর রক্ত ঝরতে লাগল

আমাকে এখন ভ‍্যাকসিন নিতে হবে
না হলে আমার জলাতঙ্ক রোগ হবে
আমি মারা যাব
আমার প্রিয়জনদের খুব কষ্ট হবে
তারা কান্না করবে

এত কিছু হবে সব জেনেও আমি কুকুরটাকে কিছু বললাম না, ছেড়ে দিলাম

কী বলব

সে তো একটা কুকুর
মানুষকে সে কামড়াতেই পারে
এ আর আশ্চর্য কী

কিন্তু কুকুর না হয়েই যে মানুষ এখন কুকুরের আচরণ করছে, কামড়াচ্ছে, ছিঁড়ে দিচ্ছে, তাড়া করছে
তাহলে তাদের মারব কীভাবে, কিছু বলব কীভাবে

তাদের দন্ত যে আরও বেশি ধারালো এবং মসৃণ;
---------------

আমি একটু বসতে পারি তোমার পাশে
আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস

আমি একটু বসতে পারি তোমার পাশে,
বৈকালি হাওয়ায় সবুজ ঘাসে?

নীচে নদী প্রবহমান
ক্ষতি কী, যদি ঘটে যায় কোন অঘটন;

তোমার বাদামি চুল আর নীল চোখ
শুষে নিতে পারে আমার সব শোক।

আমার যত কাতরতা যত আর্তনাদ,
তুমিই চেপে রাখতে পারো বুকের খাদ।

তোমাকে আমার মনে হয়েছে সেই নারী
তাইতো আমি তোমাকে নিয়ে এইসব কল্পনা করি।

আমি একটু বসতে পারি তোমার পাশে,
বৈকালি হাওয়ায় সবুজ ঘাসে?
                          ------------
*ঠিকানা:-আব্দুস সাত্তার বিশ্বাস
গ্রাম+পোস্ট:-সারাংপুর খাসপাড়া,
থানা-ডোমকল,
জেলা-মুর্শিদাবাদ। পিন-৭৪২৩০৪।
মোবাইল ও হোয়াটস এ্যাপ:৯৯৩২০১৭৫৬৫।

অলভ্য ঘোষের দুটি কবিতা --

অলভ্য ঘোষের দুটি কবিতা --   

অ্যাসপারগারস সিনড্রোম                                             
কাল রাতে তুমি এলে
রোজ রাতের মত দীর্ঘ স্বপনে।
না সেতো স্বপ্ন নয়;আমি চোখ মেলে
চেয়েছিলাম। তোমার দীঘল
চোখের পাতা পড়েছিল দুইবার;
লিপস্টিক দেওয়া লাল ঠোঁট;
কেঁপেছিল কুড়ি থেকে গোলাপ
ফোটা পাপড়ির মত। 
সুরমার আইলাইনার।
রেখায় বাধা চোখে মণি দুটো
তোমার চঞ্চল এদিক ওদিক।
ছুট ছিল। আকাশের দিকে।
মাটির দিকে। 
অথচ তুমি আমার দিকে 
চাইতে পারছিলে না।
আতরের মত কোন পারফিউমের গন্ধে। 
আমি যেন সম্রাট শাহজাহানের মতো 
একটা গোলাপ ফুল হাতে
তাজমহলের অন্দর মহলে বুক পেতে
তোমার অপেক্ষা করছিলাম। আর তুমি
আমার মমতাজ আকাশের তারাদের ছেড়ে 
এই চাঁদনী রাতে এসেছ আমার সাক্ষাতে। 
বুকের ভিতর তোমার কপোত কপোতী 
বক বকম করছে। অথচ মুখে 
একটাও কথা পড়ছে না।
আমি চিবুক খানা তুলে ধরে 
আলতো ঠোঁটে ঠোঁট চুমতে গেলাম 
তুমি সরে গেলে দশ হাত।
মৃগয়ার হরিণীর মত। 
তোমার জরির পারের জেল্লা 
মহলের শিশা গুলো থেকে
আলো ঠিকরে এসে চিকচিক করে উঠলো। 
আর চিকচিক করে উঠলো আমার বুক।
মরুভূমির বালির উপর সূর্য কিরণের মতো!
তোমার কপালের ঝুলন্ত টিকলির মত; 
আমার হৃদপিন্ডটা যেন দুলছিল।
ডান দিক-বাম দিক পেন্ডুলামের মতো। 
তোমার পায়ের নুপুর ঝনাৎ করে উঠেছিল
যেভাবে। আমার বুকটাও মোচড় দিয়েছিল 
ঠিক একই রকম। পেছন থেকে তোমার কোমরে
দুটো হাত ছোঁয়ালাম। বুঝতে পারছিলাম
তোমার বুকটা কেঁপে কেঁপে উঠছে 
হাতের মুঠোয় বন্দী দুটি নিরীহ শশকের মতো। 
তোমার শরীরটা কাঁপতে কাঁপতে যেন
শক্ত আড়ষ্ট হয়ে আসছিল। আর আমার হাত দুটো
ততই তোমাকে আষ্টেপিষ্টে আমার বাহু বন্ধনে 
বেঁধে ফেলতে চাইছিল।
আমি মিশে যেতে চাইছিলাম 
তোমার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। দুটো প্রাণীর
অনুভূতির চরম সিক্ততার অনুরণন 
ছড়িয়ে কি পড় ছিলনা এই সুবিশাল আড়ম্বর ময় 
রাজমহলে। শূন্যে ভেসে আছি মনে হচ্ছিল। 
মসৃণ স্বচ্ছ আরশি গুলো নির্লজ্জের মতো 
আমাদের দেখছে কিনা;
সেদিকে খেয়াল ছিল না। ঝাড় বাতিটা 
মাথার উপর নিভিয়ে দিতে বললে যেন তুমি;
আলতো ঠোঁট আটকে আসা গলার বাঁকে। 
লজ্জা সব লজ্জাবতীর মতো আলোর সংসর্গে।
আমার বুকে প্রেমের চিতা নিভবে কেমন করে।
একি ওড়নার তলায় যখন দুজনে মিলে হলাম এক! 
আগুনে যেন ঘৃতাহুতি হল। শরীর ফুঁড়ে 
শরীর ঢুকে পড়ে;
বোঝার উপায় থাকে না কোনটা কার।
এত বড় সাম্যের পথ ছেড়ে
কে জানে কেন এই পৃথিবীতে
ভেদাভেদ আছে গেড়ে।
শজারুর মতো কাঁপতে কাঁপতে
নরম তুলতুলে স্তনও
কচ্ছপের খোলের মত শক্ত হয়।
সমস্ত সত্তারা সব
মিলনে অস্তিত্ব হারায়।
আমি তখন নিয়ন্ত্রণ রেখার বাইরে। 
স্খলিত হয়ে পড়লাম। 
বোবা চোখ বুজে এল ঘুমে।
তবু তুমি নিবিড় আমার বাহু পাশে।
সকালে ঘুম ভেঙ্গে উঠে দেখি;
আমার স্বপ্ন সহচরী হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
-যা!মিছে বানিয়ে বানিয়ে বলা।
তোর আমার এক দশকের ফারাক।
তুই যখন প্রথম পৃথিবীর আলো দেখছিস
আমি তখন অলকানন্দা স্কুলে ক্লাস থ্রিতে পড়ি।
তাতে কি নবীর যদি খাদিজা  হয়;
আমার মমতাজ চন্দ্রিমা হবে না কেন!
-সুন্নত!
কেন তুমি হেসে গড়িয়ে পড়ছ শুনে!
-প্রথম ভাগের সুন্নত সবার জন্য ওয়াজিব নয় 
দ্বিতীয় ভাগের সুন্নত গুলো প্রতিটি উম্মতের জন্য
 অবশ্য পালনীয় কর্তব্য।নবীকে ফলো করতে গিয়ে
ফেল মারবি বুঝলি। তার চেয়ে
বরং সাইক্রিয়াটিস্ট দেখা।
হো হো করে হাসছো তুমি!
সকলের চোখ এড়িয়ে টিফিনের
অবসরে যে রাতের কাব্যালাপ।
তাজমহলের আরশি গুলোর মত 
অফিস ক্যান্টিনে সবাই
এখন চেয়ে আছে আমাদের টেবিলের দিকে। 
ঝাড়বাতির আলো যেমন মহলের শিশেদের ওপর 
প্রতিফলিত হয়ে ঠিকরে আসে। তেমনি 
তোমার উপেক্ষার হাসি সংক্রমিত করেছে
উপস্থিত সকলের হো-হো-করে হাসা 
ক্লোজআপ দাঁতের হাসিতে।
অমলেটটা  ন্যাতার মতো পড়ে প্লেটে। 
চা জুড়িয়ে জল।
ব্রিটিশ পিরিয়ডের ঢাউস ফেনটা 
মাথার উপর ঘট ঘট শব্দে ঘুরছে।
একটুও হাওয়া লাগছে না গায়ে।
কেবল একা আমি না সকলেই
মনো রোগীর মতো কোন না কোন
কাল্পনিক সম্পর্কে বাঁচে!

স্বমৈথুন

আত্মীয় বলতে কেউ নেই,
বন্ধু বলতে আর কেউ নেই,
ঘর বলতে ঘর নেই,
শহর বলতে শহর নেই,
দেশ বলতে দেশ নেই;
প্রেমিকা বলতে কেউ নেই।
অর্থ বলতে কিছু নেই,
অনর্থ হবারও ভয় নেই।
আমার জন্য আমি আছি 
একটা নিরেট আমি।
কোনও শুয়োরের বাচ্চার কাছে 
তা বেচতে পারবো না।
আমার আমি টাই সময়ে সময়ে 
আমার আত্মীয়,বাইরের  কারোসাথে 
রক্তের যোগাযোগ থাকলেও থাকতে পারে 
আত্মার যোগাযোগ নেই।
আমার আমি টাই অসময়ে বন্ধু বুকে টেনে নেয়;
বাকি সব স্বার্থপর।স্বার্থ ছাড়া কেউ নেই।
বাইরের ঘরটা অসাড় জেলখানা মনের ভেতর 
বহু কক্ষ সম্বলিত শান্ত সৌম্য নিরাপদ আমার 
একটা ঘর আছে।যার কোনও দেওয়াল নেই।
এই কংক্রিটের শহর  আমার নয়; আমার 
শহর আমার হৃদপিণ্ডটা ঘিরে আমারই পাঁজরে তৈরি।
আমার দেশ আমার স্বপ্নের ভেতরে মস্তিষ্ক জুড়ে।
ঘিলুর রাজত্ব একটা আধার আদর্শের।
আমি নিজেই আমার প্রেমিকা;
পথে পথে ঘুরি নিরন্তর কপোতের মত
বকবকুম বক করে কথা বলে চলি নিজের সাথে।
আত্মার সঞ্চয় ই আমার সঞ্চয়।
আত্ম জ্ঞান ছাড়া সবকিছুই নিরর্থক 
অর্থহীন আমার কাছে।
তাই স্বমৈথুন করে চলেছি নিজেকে।


*অলভ্য ঘোষ
৯৪৫ হরিদেবপুর নেতাজী পল্লী কলকাতা ৭০০০৮২
৯৩৩১৯৮২৬৭২



*অলভ্য ঘোষ
৯৪৫ হরিদেবপুর নেতাজী পল্লী কলকাতা ৭০০০৮২
৯৩৩১৯৮২৬৭২

প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি--সত্যজিৎ পাল

প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি--
সত্যজিৎ পাল

প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি জয়েনিং করবো
        পৌঁছালাম হেড অফিসের ঘরে।
এসি, লাইট  আর সাজানো দেখে
         মনটা একেবারেই গেল ভরে।

জয়েনিং লেটার হাতে পেলাম যখন
      নিয়ম গুলো শুনে নিলাম যেচে।
অফিস টাইম আর ছুটির সুবিধা শুনে
       আনন্দে মনটা উঠলো নেচে।

বাইক স্মার্টফোন অতি প্রয়োজন 
      ফর্মাল ড্রেস, সু অবশ্যই লাগবে।
কর্পোরেট চাকরির এটাই নিয়ম
      পোশাকেই নিজেদের পরিচয় দেবে।

অফিস শুরুর টাইমে থাকে করা নজর
        কাজটা পুষিয়ে নেবে তোমাকে খুঁজে।
কখন যে হবে অফিস ছুটি
         উঠতেই পারবে না বুঝে।

টার্গেট থাকবে আকাশ ছোঁয়া
     তবু পূরণ করা তোমার চাই।
প্রাইভেট কোম্পানির চাকরিতে তাই
     রবিবারেও তো ছুটি নাই।

অবসরে কখনো খুঁজে বের করে দেখি
    কোম্পানীর লেখা সুবিধা গুলোর কথা।
গালে হাত দিয়ে ভাবি আর বলি
      জীবনটাই হয়ে গেল বৃথা।

পোষাক পরিচ্ছদ দেখে অনেকেই ভাবে
     দারুণ বেতন, সুবিধাও সারি সারি।
বুক ফাটে, তবু মুখ ফুটে বলতে পারি না
     আমি, "প্রাইভেট কোম্পানির কর্মচারী"।

সুশান্ত সেনের কবিতা --

সুশান্ত সেনের কবিতা --

অপেক্ষা

অপেক্ষায় থাকি কখন সময় আসবে
কখন সে শেষ হাসি হাসবে
ভালোবাসবে ।

বন্দী

সময়ের জালে বন্দী
নানা অভিসন্ধি 
সব হয় ব্যর্থ
ঘটে অনর্থ ।

যদি

যদি চলে যেতে পারি দূরে
বীণা কি বেজে উঠবে অপরূপ সুরে ।


সুশান্ত সেন
৩২বি, শরৎ বসু রোড
কলিকাতা ৭০০০২০
৯৮৩০২৪২১৩৪

অর্ধ শতক ধরে হাঁটছে পথিক- চারু মান্নান

অর্ধ শতক ধরে হাঁটছে পথিক
- চারু মান্নান

বাংলার মৃত্তিকার প্রতি বর্গ ফুটে লুকিয়ে আছে
একাত্তরের জাতি সত্তার শহিদের মজ্জা,
করোটিতে গেঁথে আছে বুলেট, বেয়নেটের ক্ষত
রক্তমাখা বারুদের কঙ্কাল ফসিল।
নিত্য পথে হাঁটি,
ধুলোর বুক জুড়ে রক্ত মজ্জার রোশনাই ঝলমলিয়ে গেয়ে উঠে
মুক্তির গান; উজ্জীবিত হয়, আমার সোনার বাংলা।
পদতল থমকে যায় মুক্তির অনাহারে, স্বপ্ন বিলাপ
দূর আকাশে আশার প্রদীপ জ্বালায়।
এই যে, অর্ধ শতক ধরে হাঁটছে পথিক
আমিও তাদের দলে; সাতকাহনে শহিদ জননীরা আজও কাঁদে
মুক্তির মিছিলে ঝকঝকে সূর্যির আশায়
স্বপ্ন বুননে আমার সোনার বাংলা।
১৪২৮/হেমন্তকাল/ অগ্রহায়ণ।

আলোর পথ--রূপা বাড়ৈ

আলোর পথ--             
রূপা বাড়ৈ          

হে ক্ষণিকের অতিথি, 
মনটা তোমার কেন বিষন্নতায় ভরে
কেন না পাওয়ার ভাবনায় থাকো পড়ে,
কেনই বা হৃদয় পোড়াও তুষের অনলে
কেনই বা থাকো কারো পথ আগলে।

তুমি কি জানো না মানব জন্ম ক্ষণস্থায়ী
এসেছো একা আবার চলে যাবে একাকী,
তবে কেন মিছে মায়ায় জড়াও নিজেকে
হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা দিও বিলিয়ে।

তুমি কি জানো না তুমি আছো স্বার্থপুরে
সবার প্রয়োজনে দ্বীপ জ্বালাও মন পুড়ে,
তবে কেন নিঃস্ব হও সর্বস্ব উজাড় করে
কেনই বা কষ্ট লুকাও জীবন্ত লাশের অন্তপুরে।

হে পথ ভোলা পথিক,
তোমায় বলছি করজোড়ে, উঠে এসো মৃতপথ ছেড়ে
দৃষ্টি মেলে তাকাও উর্ধ্বে দেখো ঐ রক্তিম সূর্য'টাকে,
নববরষে নবসাজে শক্তিময় সূর্য ঝলমল করছে
জ্বলন্ত মশাল হাতে তুলে এগিয়ে যাও আলোর পথে।

দেবত্রয়ী হালদারের তিনটি কবিতা--

দেবত্রয়ী হালদারের তিনটি কবিতা--

 শীতের সকাল

কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে সহসাই শীতের সোনালি সকাল
রবি কর কুয়াশার মায়াজাল ছিন্ন করে জেগেছে দিগন্তে ঝলমল। 
পল্লীর পথে মেয়ে, আসে নেয়ে  ভিজে চুল লুন্ঠিত পিঠে
উত্তরে বায়ু বহে, বক্ষে কাঁপন ধরে, রোদ্দুর লাগে তাই মিঠে। 
উঠোনেতে বসে আছে এক ক্ষীণকায়, থুরথুরে বুড়ি
মাথা ঢুলে পড়ে বুকে, রৌদ্র পোহায় সুখে, জীর্ণ কাঁথাটা দিয়ে মুড়ি। 
ভিজিয়ে গিয়েছে শিশিরে তৃণলতার ডগায় ডগায়
প্রাণ যেন ফিরে পেলো আবার পদদলিত সে পথের দূর্বায়।
গ্ৰামীণ ঘরে পিঠার উৎসব শীতের আমেজ নিয়ে
বাগান জুড়ে ফুটেছে ফুল শীতের ছোঁয়া পেয়ে। 
খেজুর গাছে পাতানো হাড়ি রসে রসে গেছে ভরে
রসিয়া যায় ছুটে তার হয়েছে কাঁধ ভারী, দুহাতে তার ভার ধরে। 
গ্ৰামের কিছু দুরন্ত ছেলে ছোটাছুটি করে কাকভোরে 
বাড়ি থেকে বেরোয় দলবলে শরীরচর্চার নাম করে। 
গ্ৰামের কিছু মানুষ হাত পা সেঁকে আগুন জ্বেলে
কী বিচিত্রময় সৌন্দর্যের চিত্র মোদের শীতের সকালে।। 
                 --------------
             ---মুক্তির আশা---
আমরা আবারও হব মুক্ত মহামারী শেষে
আমরা আবারও মিলব,জিতে ফিরে এসে। 
দেখা হবে আমাদের আগের মতো করে
নিদারুণ বিচিত্রময় এই সুস্থ, সুখের শহরে। 
মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে
এই অতি ক্ষুদ্র জীব, করোনার কারণে। 
মরণের শেষে আপনজন পারবেনা ছুঁতে
এ কেমন মরণ ফাঁদ পেতেছো সবাকার ঘরেতে?
বিশ্ববাসীকে মৃত্যু দিয়ে ভেবেছো করবে বিশ্বজয়?
মহামারী করোনা, এ তোমার সাধ্যি নয়। 
অপেক্ষায় আছি, কবে আসবে সেই ভোর
চোখ মেলে দেখবো থেমে গেছে তোমার তাণ্ডবের ঝড়। 
দেখবে চেয়ে বিশ্ববাসী পাশেই আছে আপনজন
আদর করবে বুকে টেনে, এঁকে দেবে কপালে চুম্বন। 
করবো আমরা ভয়কে জয়, পাব ফিরে মুক্তির স্বাদ
ঘুচবে হাজার কষ্ট-জ্বালা, আসবে মোদের আহ্লাদ।। 
                --------------
                ---সুখ পাখি---
বলছি বাড়িতে কেউ আছো নাকি? 
বললাম কে তুমি করছো ডাকাডাকি? 
বলল, সব দুঃখকে হরণ করে যে আমি সেই সুখ পাখি
মৃদু হেসে বললাম, আমি কি আর কখনো হতে পারবো সুখী? 
সে চিৎকার করে বলল, আগে দরজাটা খোলো দেখি
কি হবে দরজা খুলে? সেই তো চলে যাবে দিয়ে আমাকে ফাঁকি। 
কখন থেকে তোমাকে ডাকছি, এতক্ষণ ঘুমাচ্ছিলে বুঝি? 
কত রাত অনিদ্রায় কেটেছে, এখন অনিদ্রিত ঘুমে নিজেকে খুঁজি। 
ছাড়ো যত দুঃখের কথা, আমার ওসব সহ্য হয়না
আমি যে দুঃখের সঙ্গী, সুখকেও আমি বিশ্বাস করতে পারিনা। 
সুখের বসন্তে রাঙাতে এসেছি তোমায় আমার সঙ্গে চলো
দুঃখের চাদরে মোড়া জীবনকে বসন্তের সুখের কথা কেমনে বলো? 
দুঃখ তোমায় ছুঁতে পারবে না আর, আনব জীবনে সুখের জোয়ার
ঠিক বলছো তুমি? কথা দিচ্ছো সারাজীবন থেকে যাওয়ার? 
হঠাৎ কিছু বিকৃত শব্দে ঘুমটা ভেঙে দোলা দিল মনে
এতক্ষণের এত সুখের ছোঁয়া সবই ঘটলো আমার স্বপ্নে? 
                    ------------

চিঠি--অনন্যা দাস

চিঠি
--অনন্যা দাস

কবে কার ডাকঘরের পরে থাকা চিঠি,
দরজায় কড়া নেড়ে,সুজন আছো কি?
"ইতি" শেষে নাম খানা বড়োই প্রিয়!
অভিমান নিয়ে লেখা, উত্তর দিও।
অক্ষরের গায়ে গায়ে অপেক্ষার সুর
সবুরে তে মেওয়া ফলে তুমি কত দুর?
হাতে শ্রাবণ মাঝে ভাদ্র আশ্বিন মাসে.....
অষ্টাদশী হয়েছি কি না, বারে বারে সম্বন্ধ আসে।
সময় চোখের পলক এসো তাড়াতাড়ি ,
অপেক্ষায় রইলাম, নাহলে যাব ছাড়ি।
রাত্রির কাটে না আর হতাশার নিঃশ্বাস,
একদিন ফিরবে মনে রাখি আশ্বাস।  
বছর ছয়েক তিন মাস, চিঠি এলো হাতে
একরাশ অভিযোগ লেখা ছিল তাতে।
কত আশ্বিন গেল চলে, কত তুমি প্রতীক্ষায়,
কত তুমি ভালোবাসা, শুধু থাকে অপেক্ষায়।
আজ তুমি অন্যের, তোমার চিঠিতে আমি,
নাই বা হলেম জীবন সাথী,
মোদের ভালোবাসা দামি।

ইন্দ্রাণী ব্যানার্জীর দুটি কবিতা--

ইন্দ্রাণী ব্যানার্জীর দুটি কবিতা--

তোমার সুরে 

তোমার বাঁশি
অসময়ে ডাক দেয়
সবকাজ ফেলে
সুরেতে মজিলে
লোকলাজ ভয়ে
মরমে মরি।

ওগো মরমীয়া
অমন করে 
মোহনসুরে ডাকো।
সারাদিন শুধু
মোহিত করে রাখো।

আপনার মনে
কখন যে হাসি
হারাবার ভয়ে
আকুল নয়নে
অশ্রু ঝরে যে
রাশি আর রাশি।

কখনো ভাবি
এই তো তুমি
পাগলের পারা
হাতটি বাড়াই
খনেকের তরে
ভেঙে যায় ভুল
এমনি করে কি
হৃদয় ব্যাকুল।

ও বাঁশির সুরে
হেসে উঠি আমি
মনে মনে ডাকি
হে হৃদয়স্বামী
অমন করে
ডাকলে পরে
কেমনে থাকিব
এ পরান ধরে
নিন্দা রটিবে
আমি কুলনারী
থামাও ও বাঁশি
আমি ভয়ে মরি।
 
ছায়াআদর

গোটা ঘর জুড়ে
আমি গাছ লাগিয়েছি।
সবুজ এর ফেরি করবো।
দিনরাত এগলি ওগলি
বলে যাবো সবুজ চাই নাকি?

আমার আলমারি নেই
বিছানা নেই
শুধুই গাছেদের ছায়া আদর।
ঘুম ভেঙে দেখি
পাতার বিছানায় মহারাণী আমি।

আমার হৃদয়ে গাছ
সবুজের প্রয়োজন হলে
বারবার এসো।
 

আলমগীর সরকার লিটনের দুটি কবিতা --ভাষা মানে মা

আলমগীর সরকার লিটনের দুটি কবিতা --
ভাষা মানে মা
=============

ভাষা মানে মা!
মায়ের মুখে বাবা ডাক
শুনার আকুতি;
তার জন্যে যত রক্ত গেলো 
রফিক,সফিক, সালাম
বরকত জব্বার আরও কত 
নাম না জানা শহীদ;

তাঁদের বুকে দাগ লেগে আছে
বাংলা বলার রক্ত মাখা মা!
জনম জনম ধবে কি ঋণী করে গেলে
বলো কি করে শোধ দিবো তাঁর দান
অম্লান যেনো বাংলা ভাষার প্রাণ!

একুশ এলেই যে গন্ধ পাই-
মা বলার স্বাদ -ভালবাসার আদর;
বলো কি করে জানাই বিনম্র সালাম,
শ্রদ্ধা! তোমরাই উৎসর্গ করে গেলে 
ভাষা মানে মা।

//ফাল্গুন রঙে//

==============================
ফাল্গুনের অনল রঙ আকাশের গায়ে দেখি!
এক কোকিলের গান শুনি- তবু মন ভরে না,
একমুঠো মাটির দিকে তাকালে ধূসর মনে হয়;
সব ফুলের গন্ধ যেনো বোতলের মধ্যে বন্ধ।
অথচ বাতাসে হিম শীতল ঠান্ডা অনুভব-

এতো শীতের পাণ্ডা শেষ- এখন রৌদ্রতাপ উষ্ণ!
খারাই তুফানের মেঘ শেষে নীল মেঘ হঠাৎ  
বৃষ্টিপাত তারপর রাতে শীত উষ্ণ অপেক্ষা!
কি দেখালে ফাল্গুন? আমি শুধু মাটি, দুর্বাঘাস,
ঘাসফড়িং,জল হাওয়া উপভোগ করি ফাল্গুন রঙে।
১৬/০২/২২

সাবিত্রী দাসের দুটি কবিতা--

সাবিত্রী দাসের দুটি কবিতা--
  
অন্তরালে

প্রেমের উজানে বিরহ-মিলনে এক বিচিত্র সুর,
 স্পর্শকাতর ভাব বিনিময়,রোম্যান্সে ভরপুর।
হয়তো বা কেউ প্রেম পায় খুঁজে তীব্র শরীরী ঘ্রাণে, 
কারো প্রাণ ভাসে প্রেমের উজানে ,ভরা জোয়ারের টানে।
তট ভাঙা ঢেউ উথাল পাথাল
তপ্ত শরীরী দাহ,
মনের নাগাল অধরাই থাকে বুক- জ্বালা অহরহ !
প্রেম আর কাম এক করে ফেলা সুতীব্র আঘ্রাণে, 
বুকের ভেতর সযতনে রাখা স্বপ্নেরা দিন গোণে।
 কামনার জ্বালা উপশমে কেউ দিন গোনে মনে মনে, 
হয়তো বা কেউ অপেক্ষা করে মনের আমন্ত্রণে।
প্রেম নামে কাম শরীরে ঘনায় কেটে যায়  সারাবেলা ,
বুঝেও বোঝেনা মনের যাচনা  প্রেম নামে করে খেলা ।
তপ্ত দুপুর তৃপ্তির সুখে ভেসে যায় ভালোবেসে,
শ্রান্ত বিকেল থমকে দাঁড়ায় তোমার চিবুকে এসে। 
        **********

জিজ্ঞাসা

সদ্যোজাত শিশু-
      বিস্ফারিত দু চোখে তার, অপার বিস্ময়
ঈষৎ উন্মুক্ত ঠোঁটে ফোটে  জিজ্ঞাসা  ...

" এ পৃথিবী কী আমাদের নয়?
 স্বাগত জানায়, বুলেট বিদ্ধ আকাশে
      বারুদের ঘ্রাণ।
 কেন  আর কেউ নয়!"

কচি কচি মুষ্টিবদ্ধ হাত-
      উদ্যত হয়ে জেগে  রয়,
সারি সারি মৃত্যু-মিছিলে!

রাতের বেলায় চাঁদ আসে...রোদ হাসে।"- নারায়ণ রায়

"রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।"
- নারায়ণ রায়

সাত ফুট বাই আটফুট ঘর আমার
রেল লাইনের পাশে।
তবুও রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।

বাদল দিনে নৌকো চলে ......,
শীতের দিনে কাঁপন তোলে।
তবুও রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।

বউ আমার ব্যস্ত থাকে নানান কাজে,
এক বাড়িতে ঘর মোছে, 
আর এক খানে বাসন মাজে;
মাঝে মধ্যে পর্টির কাজে 
সন্ধ্যাবেলায় ভীষণ সাজে।
তবুও রাতের বেলায় চাঁদ আসে, 
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।

ছেলে আমার লায়েক বড়, 
পাড়ার দাদার প্রিয়তম
বোমা পিস্তল মেশিন বলো 
অনেকটা তার খেলনা সম।
সম বচ্ছর ছটি মাসে, 
বাঁধাই আছে কারাবাসে।
তবুও রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।

মেয়ে আমার ষোলোয় প'ল।
তিনটিবার পোয়াতি হ'ল 
শেষের সেবার সেই 'দাদা' এসে
হাসপাতালে নিয়ে শেষে;
সাদা কাপড়ে ঢাকা দিয়ে, 
কাঁচ গাড়ীতে ফিরে আসে।
কেঁদে কেটে দাদা বলে, 
যে গেছে সে গেছে চলে।
দশ হাজারে রফা হল অবশেষে।
তবুও রাতের বেলায় চাঁদ আসে,
আর দিনের বেলায় রোদ হাসে।

বউ এখন কমজোরি
আর ছেলের হ'ল যাবজ্জীবন।
বৃদ্ধ আমি একা বসে,
এত দিনে বুঝনু শেষে; 
আকাশে ভরা মেঘ যে ভাসে।
মোর ঘরেতে আর কোনোদিন
চাঁদ না আসে, রোদ না হাসে।

Saturday, 5 March 2022

সম্পাদকীয় --

সম্পাদকীয় কলমে--

অনলাইন ও ই-বুক পত্রিকায় সীমাবদ্ধ না থেকে আমরা ভাবছি বার্ষিক একটি ছাপা সংখ্যা বা সংকলন প্রকাশ করব। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সংখ্যাটি প্রকাশ করার চেষ্টা করব নতুবা আগামী তিন মাসের মধ্যে ছাপা সংকলন প্রকাশিত হবে। এ ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত গত সংখ্যার সম্পাদকীয়তে প্রকাশ করেছি।

বর্তমান সংখ্যা কবিতা সংখ্যা। সংখ্যাটি সবাইকে পড়ে নিরপেক্ষ মতামত দিতে অনুরোধ জানাই। নিবেদন ইতি--তাপসকিরণ রায়।


 

সম্পাদকীয় কলমে--

একটা কথা  আজকাল প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসে -"সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।"
একদিক দিয়ে দেখলে একদম ঠিক ,"সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি।"
কবিতা লিখলেই যথার্থ কবি হওয়া যায় না।আবার একথাও ঠিক একটা লাইন পর্যন্ত লিখলো না ,তবুও সে কবি।কবিতা তার অন্তরে স্বতস্ফূর্ত ভাবে জেগে ওঠে আর মুক্ত প্রকৃতির অঙ্গনে সে সেই মুগ্ধতার প্রকাশে একটা দুটো অনবদ্য লাইন আওড়ায়।না ,কোনরকম নাম যশ আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই এই প্রকাশ তার কবি সত্ত্বাকেই পরিস্ফূট করে তোলে।এ হলো জাত কবি।কবিত্ব তার কাছে নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের মতোই সহজাত। তাহলে কী  অনুশীলন বা চর্চার কী কোন মূল্য নেই! আছে প্রতিভা থাকলেও অন্তরের সেই সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তুলতে হবে,চাগিয়ে রাখতে হবে ।  আর সব কবিতার লিখিত রূপের প্রয়োজন বড়ো বেশী। 
 প্রামাণ্য দলিল না হলে কালের আবর্তে বেঁচে থাকা বলেও তো একটা কথা আছে।তাই লিখিত রূপের অর্থাৎ লিখিত কবিতার প্রয়োজন।
কালজয়ী কবিতাই বাস্তবিক ভাবে কবিকে কালোত্তীর্ণ করে  যথার্থ কবি বলে চিহ্নিত করে-- সাবিত্রী দাস।

শব্দ ঝংকার--মহুয়া বিশ্বাস

শব্দ ঝংকার--
মহুয়া বিশ্বাস

কবির হৃদয়পটে যে শব্দের শিশুরা খেলাকরে অনায়াসে সহজ, সবুজ-------
স্বর্ণার্থ তৈরী করে পূর্ণ করে হৃদয়ভাণ্ডার;
অনুভূতিরা মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করে অন্তরাল হতে ভাষার মাহাত্ম‍্যে।
আপ্লুত হৃদয় পুলকীত ও স্পন্দিত......
সৃষ্টির মহিমায় প্রবর্তীত ;
বন্ধ জানালা খোলে ফুরফুরে হাওয়ার আমেজে....
আনন্দ স্বাদ আস্বাদনে হৃদয়ে পরিপূর্ণতার বার্তা আনে---
স্বাদে,ঘ্রাণে,ছন্দ-অলঙ্কারের উজ্জ্বল ছাঁটায়।
শব্দ ঝংকারে হৃদয়ে সুর মূর্ছনা বিহ্বলতার ধ্বনি তোলে।

---------------------------------

সোমপ্রভা (জারা সোমা) বন্দ্যোপাধ্যায়

সোমপ্রভা (জারা সোমা) বন্দ্যোপাধ্যায় 

নিজেকে--

সব চলে যাবার পরেও হিংসা রয়েছে বুকে
অনায়াসে প্রাণ নিতে পারে রক্তের অসুখ 

আমাদের কোথাও একটা ভুল হয়েছিল চিনতে।

একজন মূর্খ  সর্বত্র খোদাই করেছে নিজ নাম।

  অহং-আস্তানা কখনও গেরস্ত হতে পারেনি,অথচ
একটি বিষাদ বালক আজীবন খেলেছে অলীক     

     মঞ্চকেই ভেবে নিয়ে পরম বন্ধু ও আশ্রয়!

ঘোর কাটাতে সময় ছুঁয়ে ফেলছে মধ্যযাম

এত অসুখে সাধারণ মেলামেশা আর সঙ্গত নয় 
বরং মনের বিবাদ চিনিয়ে দিক

 ভাঙা ইঁট....

ছায়ামুখ.....

নিজেকে......

প্রতিবাদী কন্ঠই চিরকাল রয়ে যায় ....

#বন্ধুর

একবাক্যে যদি লেখো সম্পর্কহীন
তবে খুঁজে দেখো আপন করতল
আঙ্গুলের মুদ্রায় ফোটাও ব্রহ্ম

মনের আঙ্গিনায় খেলা করে ঘাসফুল 
আম্রমুকুল-ছাতিমের সুবাসে ভাসে বারান্দা 
গৃহকোণে গচ্ছিত রাখা উপহার 

যেদিন হাত স্পর্শে পেয়েছিল তোমার আঙ্গুল 
সেদিন থেকেই প্রতিষ্ঠিত জলের অধিকার 
তারপর থেকেই সামলে রাখি ক্ষত 

তুমুল বাক্যে সাজিয়েছি প্রেমজ কবিতা 
   তোমার পদতলে হৃদিপদ্ম 
জাহ্নবী তীরে সাজানো বাসর 

গোঁসাই নগরজীবনেও কেউ আসে 
হাতে হাত রেখে পেরোতে বন্ধুর।।।


*জারা সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় 
কোলকাতা বারাসাত
Zara Soma / জারা সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়

ঊশ্রী মন্ডলের গুচ্ছ কবিতা--


ঊশ্রী মন্ডলের গুচ্ছ কবিতা--

চেতনা

" অনাদিকাল সাজিয়ে রেখেছিলেম রঙ্গনেরে ..
জড়িমারা আনাগোনা করছিলো আমারই অগোচরে ,
কাঠামোটুকু যেমন ছিলো তেমনই বইছিলো  ,
আকাঙ্ক্ষী -যে আজি বুকের ভেতরই জন্ম নিলো..l"

" জীবন প্রবহমান এক গতিধারা..
কখনো তরঙ্গময় কখনো নিস্তরঙ্গের ইশারা ,
অনুপলের যাত্রা হয়তো , আর কিছু'না ;
তবে এ-দিনে বেঁচে থাকাই যেন বিস্ময় অচেনা..|"

" দূর হোক মনের দারিদ্রতা..
আসুক না আজ মানসিক স্বচ্ছলতা ,
আমিই গড়ব আমিই হবো আমারই প্রেরণা ;
ছড়িয়ে পড়ুক এ -বিশ্ব মাঝেই মূল্য বোধের চেতনা..|"

" আজ আকাশের দিকে তাকালাম..
দেখলাম আমি একা নই একদম,
পুরো মহাবিশ্ব আমার দিকে বাড়িয়ে দুহাত ;
দিলাম হাত আমি-ও  বিন্দুমাত্র না করেই কালাতিপাত.. |"

উন্মুক্ত


" এঁকেছিলেম যা তা সম্পূর্ণ মনসুখ..
লেখা কবিতায় ছিলো যথার্থর বহুমুখ,
সমূহের চাহিদা বঞ্চনায় ভরা দেখি ;
উন্মুক্ত সত্যেরই হলাম আজ মুখোমুখি...|"

" আগলে বন্ধ ছিলো যে অম্বুমুখ..
প্রবল জোয়ারে ভেঙ্গে এলো জনসম্মুখ,
প্রতিনিয়ত তারে ভাঙি গড়ি পরখি ;
শুভতা বরণে অশুভতা আজ রুখি... |"

" কুয়াশায় আবৃত হয়ে যারা ছিলো পরান্মুখ..
তারাই নবআলোকে পরিস্ফুটের জন্যে উন্মুখ,
শৈত্য ভঙ্গে হয়েছে নবীন শ্যেনপাখি ;
অসাম্যের বিরুদ্ধে দেখায় আজ রক্তআঁখি...| "

" জানি একদিন অব্যাবস্থা হবে অস্তোন্মুখ..
সমগ্রর উন্নতি হবে হয়ে উদয়োন্মুখ ,
অগ্রোন্মুখে থাকবে অসংখ্য জ্বলজ্বলে অক্ষি ;
তারাই বাঁধবে সকলের হাতে স্বাধীনতা রাখী... |"
[03/03, 12:28 pm] +91 96350 42839: কোলাজ
ঊশ্রী মন্ডল 
3.3.2021

" বন্ধ দুয়ার খুলে দেখ'না কে এসেছে আজ..
বৈরাগ্য সাধন শেষে বসন্তরূপে এ'যে ঋতুরাজ,
আজকে-ই জানি ভাঙবে জড়তা প্রকৃতির অবশ্যই ;
গাঢ় কুয়াশা হটে গিয়ে নতুন আলো দেখবোই...| "

" সৌন্দর্যে পূর্ণ  ঐ হিমান্ত হয়ে উদার দরাজ..
আপনই সুর কোকিলকণ্ঠে দিলো হয়ে রসরাজ,
তাঁর-ই সঞ্চিত রূপরঙ রসে ধরা'রে সাজায় ;
নিপুণ হস্তে আঁকছে যেন আমারই এই আঙিনায়...|"

" ঝরাপাতা বলে,কার ছোঁয়ায় সবুজের নিলাম সাজ..
ঋক্ষরাজ বলে আমিই গড়েছি এ কোলাজ,
আমি-ই এসেছি নবজীবনে হয়ে উজ্জ্বল শামাস ;
দুঃখ বেদনা ভুলে আনন্দে কাটাও এ মধুমাস...|" 

" দখিনা পবন বলে কানে,এখনও কেনো ঘুমাস..
দুকূল ছাপানো আনন্দের জোয়ারে এখনই ভাস, 
প্রকৃতি-ও হয়েছে আজ অনুপমা আমারই ছোঁয়ায় ;
প্রকৃতি ও মানবের একাত্মতা চিরন্তন আমারই ছাওয়ায়...|"

জীবন প্রবাহে
আমি ঊশ্রী

" আমি একজন..
দো'পেয়ে ডানাবিহীন সপাট নখবিশিষ্ট প্রাণী,
দ্বিখণ্ডিত ক্রিয়া ও প্রভাবকে সঙ্গী করে..
জীবন নামক একটি স্বল্প প্রবাসের সন্ধানে ;
একাই এখন বেরিয়ে পড়েছি...||"

" শুধু সময়..
চিরন্তন স্থির কিন্তু চলন্ত চিত্ররূপে ,
আমার সাথে আমারই কায়ার ছায়া হয়ে..
আশা রুপী স্বপ্নকে চেতনায় ঝুলিয়ে রেখেছে ;
যা'ছিলো যুক্তিসম্পন্ন ও উদার...||"

" আমার আচরণ ..
তিনটি উৎস থেকে প্রবাহিত হচ্ছিলো ,
যেগুলি আকাঙ্ক্ষা, আবেগ এবং জ্ঞান অবশ্যই
সাথে জীব সম্মোধীয় জ্ঞানও ছিলো ভরপুর
অনুমান নির্ভরে সত্যকে খুজছিলাম...||"

" প্রত্যেকটা দিনের..
গুরত্বকে বুঝে নতুনে রূপান্তরিত হলাম ,
উদগ্রীব হলেম উদ্দেশ্যকে পূরণ করার জন্যে..
প্রতি পলকে গুরত্ব সহকারে অনুধাবন করে  ;
জীবন প্রবাসে প্রতিষ্টিত হলাম...||"

পুরাতন ও নতুন

" আমার আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত,সমস্ত আদ্যন্ত নিয়ে..
সমগ্র আদ্যোপান্তকে কাটা ছেড়া করলাম যখন ,
সে স্থানে কিন্তু আমার নিজস্বতা পরিলক্ষিত হচ্ছিলো না ;
দেখলেম সুতায়'বাঁধা পুতুল রূপে ছিলেম তখন... ||"

" কেননা আমি আমার সম্পূর্ণতা নিয়ে কোথাও উপস্থিত ছিলেমনা..
জীবিত থেকেও ছিলেম যে মৃত জীবন্মৃত ,
কারণ আমি যে এই বাংলার একজন সাধারণ নারী ;
আমিত্ব প্রকাশের আজ্ঞা কোনোদিনই ছিলোনা অনুমোদিত...|| "

" পরিবর্তনের হাওয়ায় পূর্ব মুছে গিয়ে সব হলো ভূতপূর্ব..
আমার ব্যক্তিত্ব হলো স্বাধীন হলো উন্মুক্ত,
এক থেকে শুরু করে ক্রমাগত একাদিক্রমে কাটলো শিকল  ;
পূর্বে ছিলো'না,অদৃষ্টপূর্বকে দেখলেম যে'ছিলো নিষ্কল... ||"

" বন্ধনমুক্তে চাহতকে লাভের ইচ্ছায় লিপ্সায় বিহগের ন্যায় উড়ছি..
হনন করার ইচ্ছায় জিঘাংসায় অতীতরে মুছছি ,
যা কোনােভাবেই নিবারণ করা যায়না যা ছিলো অনিবার্য ;
নিয়তির উপদেশলব্ধ প্রথমজ্ঞান করলেম উপজ্ঞারূপে স্বীকার্য... ||"

মনস্থ সত্য


" পা তখনই অন্য একটি পা'কে অনুভব করে ,
যখন সেটি মাটিকে ছোঁয়..
তখনই সে অজানারে জানতে চিনতে বেরিয়ে পড়ে ; বয়ে চলা বহমান সভ্যতায়...|"

" মানব আত্মাসম মাটিতে জ্ঞান তার বীজের  উপস্তিতি...
সম্যক উপলব্ধি করে যখন ,
সমগ্রের হিতে অদৃশ্য সম্ভাবনাকে বাস্তবের আঙিনায় নিঃসংকোচে...
বিলিয়ে দেয় সে তখন.. |"

" নিছক জ্বলজ্বল করার চেয়ে আলোকিত করা ভাল,
বলছে ঐ মাটির প্রদীপ |
অধিক চিন্তা ভাবনার চেয়ে মনস্থ সত্যের কাছে... পৌঁছে জ্বালো মনঃ দীপ... l"

" বাতাসের মতো দ্রুত সব অজ্ঞানসম মেঘ উড়িয়ে..
কাঠের মতোই ঘনিষ্ঠভাব হও ,
আগুনের মতো সব অজ্ঞানতা পুড়িয়ে দিয়ে এখন ; পর্বতের ন্যায় স্থির রও... ।"

সোমনাথ সাহার গুচ্ছ কবিতা--


সোমনাথ সাহার গুচ্ছ কবিতা--

বোধবৃক্ষ*
..................
হাওয়ার ভিতর দিয়ে যে আলো নিভৃতে আসে,
যে আলো পাথর বাঁধা শীতল বাড়ির পাশে
জোনাকিদের হাতে চিঠি দিয়ে চলে যায় চাঁদের কাছে।
যে আলোয় পরীরা নামে উষ্ণ আলিঙ্গনের।
সেই আলোর কাছে বোধবৃক্ষ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি শরতের ছাতিম গাছ হয়ে।

*কালের পথিক*
.......................
 অনেক বিপ্লবের পর আজ আবার তোমার রুমালে ঠোঁটের স্পর্শ পাই।
আমাদের চিলেকোঠা জানে আদর কতটা বন্য হতে পারে। 
ঘর বলতে নিকোনো উঠোনে প্রিয় জনের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা।
দুহাতে মনের নৌকো খুলে দিয়ে জলের মতন ভেসে থাকি কালের পথিক হয়ে।

*জীবনতৃষ্ণা*
....................
বিস্তর পিপাসা পেলে বেড়ে যায় স্বপ্নের দড়ি,
আমি পুড়ে যাচ্ছি ছল-বল-কৌশলে।
তোমার এক একটি চুম্বন শুষে নিচ্ছে আমার মস্তিষ্কের বিষ।
আমার বিষণ্ণতা জমা হচ্ছে অন্ধ-মহাকালে।
তারপর, আমার জীবন থেকে গড়িয়ে পড়ে অপরূপ শুন্যতা।
ধর্মঘর থেকে নেমে আসছে রাত, বাড়ছে জীবনতৃষ্ণা।

*মৃত্যুবাণ*
..................
আমার হত্যাকারীদের জন্য পাঠাই নীলখাম,
মৃতপ্রায় জামায় আঁকতে থাকি জটিল বাহাদুরি।
স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আমার শবদেহ ছুঁয়ে আছে এক অন্ধকার।
পাখি গুলিও কিছু সংশয় নিয়ে বাসায় ফিরেছে আজ।
আমার মৃত্যুবাণ রওনা দিয়েছে বহুকাল আগে,
মৃত্যুদিনে মনেপড়ে যায় জন্মের তো কোনো শেষ নেই।
তবুও চেনা বৃষ্টি ভিজে যায়, চেনা মেঘ একা একা কাঁদে।

             ----------_-------

মুক্তি -- প্রেরণা বড়াল


মুক্তি -- প্রেরণা বড়াল 

যাচ্ছে জীবন নদী বয়ে যাক।
যেথায় মন চায় চলে যাক।
দ্বিধায় বাঁধায় কখনও না
বন্ধ কোরোনা মনের জালনা।
মুক্তির আনন্দ স্বাদ পেতে দাও।
নিশ্চিত নিঃশ্বাস নিতে দাও।
দুঃখ সুখের মেঘ থাকনা 
আবেগ হাওয়ায় উড়ে যাকনা।
কতো অচেনা চেনার মাঝারে
আপনি খুঁজিয়া নাও আপনারে।

সাহুডাঙির পদ্য গদ্য-- কল্যাণ সেনগুপ্ত কাজল

সাহুডাঙির পদ্য গদ্য--
                 কল্যাণ সেনগুপ্ত কাজল

সাহু নদীর অববাহিকায় ডাঙা জমি —
এটাই নামকরণের সার্থকতা ৷
সেখানে রামকৃষ্ণ আশ্রম
জনশ্রুতি সেখানে সুন্দর ফুল , বিরল বিটপী , ঔষধি
কৈশোরের পর যাওয়া হয়নি
তখন ধুলিময় শূন্য প্রান্তর , দিগন্তে তাকালে
চোখ আটকে যায় বৈকুন্ঠপুর বনাঞ্চলে
আশ্রমেরও কোনো জৌলুস নেই ৷

এখন ঝাঁ চকচকে ইস্টার্ণ বাইপাস
বাস , লরি , ম্যাক্সি-ট্যাক্সির অবিরত আনাগোনা
ক্রোশপাঁচেক ঐ পথ পেরিয়ে গেলাম সেদিন
আশ্রমের চাকচিক্য বেড়েছে , বেড়েছে কানুন
শুনলাম , ফটক খুলতে এখনও ঘন্টাদুয়েক দেরি
আচমকা যাওয়া , তথ্য অজানা ছিল ৷

সৌন্দর্য উপভোগের জন্য দু'ঘন্টা অপেক্ষা !
অসহনীয়
বিশেষত সময় বইয়ে দেবার উপায় না থাকলে ৷

অতএব ফিরে চল —
বাইপাস ছেড়ে এবার আদর্শ পল্লীর রাস্তায়
কিছু দূরের সমান্তরাল পথে
বাঁ দিকে শহরের ছোঁয়াচ লাগেনি
ডানদিকে গ্রাম্য বাড়ির ফাঁকে ফাঁকে ও দূরে মাঠে
গড়ে উঠছে কংক্রিটের সাজানো বাগান
তবু সারা পথ ডাইনে বাঁয়ে তাকালেই
অসংখ্য মুকুলিত আম ও তেজপাতা গাছ
এখানে ওখানে লাউমাচায় ঝুলন্ত লাউ
মনে আসে না লাউ-চিংড়ি খাই
মনে হয় অনন্তকাল এভাবে ঝুলুক ৷

আবেশি মননে কেটে গেল কাল......

সংবিৎ ফিরলো শহরের কাঠিন্যে
আকাশে দু'টি পাখি পাশাপাশি উড়তে উড়তে যেমন
পালকে পালকে ছোঁয়া লাগে মাঝে সাঝে 
তেমনি আমাদের বাহনের সাথে
অন্য এক বাহনের সামান্য ছোঁয়াচ লেগেছে
ক্ষতিকর নয় কোনো কিছু ৷

ক্ষিপ্ত চালকদ্বয় উত্তেজিত হয়ে
একে অপরকে দোষারোপের বন্যায় ভাসালো ৷

রকে ব'সে ছিল কটা ছেলে , বেশ বড়
প্রবল উৎসাহে "হোয়" "হোয়" ক'রে
দু'পক্ষকেই উস্কাতে লাগলো....,

তোরা কি শয়তান না মূর্খ নাকি অন্য কিছু
বিবাদ না মিটিয়ে উস্কানি দিচ্ছিস ?

তোরা চলছিস উদ্দেশ্যহীন বেপরোয়া ভাবে
কিছুই করতে হবে না তোদের
অন্ততঃ
যারা কিছু ভাল করার চেষ্টায় আছে
তাদের উৎসাহ দে 
দেখবি সমাজের চেহারা পাল্টে কী হয় !
                     ——— x ———

ইচ্ছে ডানা--শমিত কর্মকার

ইচ্ছে ডানা
---শমিত কর্মকার

ইচ্ছা গুলো ইচ্ছা থাকে ফুটলে পরে ভালো। 
মনের ভিতর ইচ্ছা গুলো যখন তখন জাগে। 
কিছু ইচ্ছা অনেক ভালো কখনো মনে ধরে--
কিছু ইচ্ছা যেমন তেমন মনকে কেমন যেন খারাপ করে ফেলে। 
তবুও ইচ্ছাগুলোই কেন যেন আমাদের পাশে পাশেই চলে। 
 ইচ্ছা দিয়েই চলছে সব ছোট থেকে বড়। 
 সময় সময় ইচ্ছা গুলো কেমন যেন নড়েচড়ে ওঠে। 
ইচ্ছা থেকেই কর্ম শুরু ইচ্ছাগুলোই করে সবকর্ম  শেষ।
তাই ইচ্ছা ডানায় ভরটি দিয়েই ঘুরে ফেলছি সমস্ত দেশ। 
       -------------

আমরা শিশু-- শ্রীকান্ত মাহাত

আমরা শিশু--
          শ্রীকান্ত মাহাত


আমরা শিশু  চাই না কিছু
খাবার খুঁজি পেট ভরার।
খেলবো বলে খেলার সাথী
খেলনা খুঁজি কিছু খেলার।
তার-ই মাঝে সকালে সাঁঝে
আদর খুঁজি পিতা মাতার।

আমরা শিশু চাই না কিছু
ঘুম না হলে দাদুর কোলে
গল্প যে শুনি খুশির বানে
পৌঁছে যে যায় বিনা বাধায়
আজব দেশে রঙীন বেশে।

আমরা শিশু চাই না কিছু
নিদ্রা-ই বৈরী ঘুমিয়ে পড়ি                                      ঠাক্ মা কোলে কিছু না বলে
ঘুমের ঘোরে পরম সুখে
দিই-যে পাড়ি অচিন দেশে।

আমরা শিশু চাই না কিছু
একটু নাচি     একটু গাই
নিত্য নতুন   ছন্দে..রে.. ভাই।
একটু হাসি   একটু খুশি
সবার কাছে  এ-বিশ্ব মাঝে।

নতুন বছর ফের আসছে--রানা জামান

নতুন বছর ফের আসছে--
রানা জামান



নতুন বছর ফের বাঙ্গালা সনের,
আসিতেছে নিয়ে ঢের আবেগ মনের।
শোভাযাত্রা সকালের মুখোশের রঙে,
দূরে থাক অকালের জ্বরা কোনো সঙে।
পান্তার ভোজন বেশ পেঁয়াজ লঙ্কায়,
আনন্দের থাক রেশ পিটিয়ে ডঙ্কায়।
নয়া বস্ত্রে ঘুরাফেরা আকাশ পাতাল,
কিনে নেয়া মুড়িপ্যারা ঢোলক মাথাল।

অভিজ্ঞতা পুরানের নিয়ে যাবে সামনে,
যা যা মন জুড়ানের দৃঢ় মনে নাম নে।
নয়া বর্ষে করে যাবে প্রচেষ্টা সকল,
সফলতা যবে পাবে রবে না ধকল।

Friday, 4 March 2022

এক নীল ধ্রুবতারা--সৌমেন পাল

এক নীল ধ্রুবতারা--
সৌমেন পাল

আমি যখন আকাশ পানে চাই 
জান ত কি দেখিতে পাই
এই বৃহৎ মহাশূণ্য ভেদ করে 
আমার দৃষ্টী এই নীলচে আকাশের 
হাজার হাজার তারার মাঝে 
শুধু সেই তারাটি চোখে পরে ।।
আমি একদৃষ্টে চাইয়া থাকি 
আষাঢ়ের রাতে তৃষ্ণাত্ব -ক্ষুদার্থ চাতকের মতো ।।
তাকে মনে হয় সে আমার বহুদিনের চেনা 
এক নীল ধ্রুবতারা ।।
যুগ যুগ ধরে একই স্থানে থেকেগেছে
 আমাকে দেখার জন্য ।।
আমিও দেখেছি শতবার , আজও দেখছি বারেবার !!
আর কিভাবে কত বার বোঝাব 
সে আমার শুধু আমার ।।

সৌমেন পালের কবিতা --

তুমি তো এসেছিলে মধ্যরাতে
আমার স্বপ্নে দেখা দিতে,
আবছা আলোয় বসেছিলে আমার পাশে
সেই মধ্যরাতে।
আমার মাথা ছিলো তোমার কোলে
তুমি তো হাত বুলিয়ে ছিলে,
তোমার স্পর্শে দর্পিত সিংহের মতো ভেবেছি নিজেকে
সেই মধ্যেরাতে।
তোমার মুখের উজ্জ্বল্য
আমার অন্ধকার ঘরও করেছিল আলো
তোমার নিশ্বাস যেন ফোটাচ্ছিল উদ্বিগ্ন গোলাপ
সেই মধ্যরাতে।
তোমাকে ঘিরেই তো আমরা
আমাদের স্বপ্নে ছিলাম আচ্ছন্ন
তোমার জন্যই তো গরে তুলেছিলাম রাজধানীর নতুন প্রাসাদ
সেই মধ্যরাতে।
তুমি যদি একবার বলতে 
আমার রক্ত-মাংস ছিন্ন করতে চাও, তাও পেতে
তবে কেন চলেগেলে আমায় ফেলে
আমি তো সে রাতের চাইনি ভোর
সেই মধ্যরাতের।



*নাম-সৌমেন পাল
*ঠিকানাঃ-অশোকনগর ৩নংমোমিনপুর
*পিন-743222
*মোবাইলঃ-8617669709



মোবাইল পাঁচালী--বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী

মোবাইল পাঁচালী--
বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী

ব্যস্ত হয়ে পড়লে তুমি যখন
এই নাও আমার মোবাইল ফোন ,
ফোন করে ডাক তুমি তাকে ,
যে তোমার বিশ্বাসে অবিশ্বাসে থাকে ।


তোমার ডাকে দেবে কারা সাড়া
ভেবে তুমি হবেই দিশা হারা ,
ঠিক তখন আমাকেই পাবে , 
তোমার তৈরি কেমিক্যাল হাবে ।


আমি বললাম , তোমার গ্যাছে চুরি ,
বৃথা তোমার মোবাইল বাহাদুরি ;
ডাক যদি দিতেই একটু চাও ,
ফোনাফোনি করা বাদ দাও ।


অমনি তুমি ব্যস্ত হলে আবার ;
মোবাইল ফোন ভাবলে তোমার খাবার ;
মুখে এল খাদ্য খাবার রুচি ,
রুমাল দিয়ে সরু মুখ মুছি ।


তোমার বিশ্বাস রুমালে পড়ল ধরা ,
দেখলে আমার কপাল ভাঁজ করা ,
কপাল ঠুকে তোমার কাজেই নামি ,
কেমিক্যাল হাবে হচ্ছ বদনামি ।


যা যা হবার প্রথমেই হতো ,
ব্যস্ত হবার কথা এসব নাতো , 
তোমার ঢাক তুমিই নাহয় বাজাও ;
কেন শুধু আমাকে আজ নাচাও ।


রাস্তা খোলা রাখাই বোধহয় ভালো ,
শুধু মুদু জীবনটাই কেলো ;
পালিয়ে যাবার প্রথা আছে ঠিক ,
হেরে জেতো বাজি মর্জি মাফিক ।


আর হবে , কি হবে তা ভেবে ,
সুদের ভয় কি‌, কর্জ করতে নেবে ,
দিন বাড়ে  , বাড়ুক দিনগুলো ,
আমরা নয় , ওরাই চমকালো ।


তোমার নয় , আমারটাই প্রেম ?
তোমার ক্ষেত্রে কি এসব অপ্রেম ;
তুমি যখন ধরলে আমায় বাজি ,
আমি নাহয় ঝুটা দ্রৌপদী সাজি ।

আমার দূরত্ব--সুমনা রায়

আমার দূরত্ব--
সুমনা রায়


রাত গভীর হলে সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়
জেগে থাকা চোখের ভ্রমণভূগোল
গাছেদের চোখ মুখ বেয়ে ঝরে  
ঘুমপাড়ানি কুয়াশা টুপটাপ।

ঝুলন্ত ব্যালকনিটা হয়ে ওঠে
থেমে থাকা একটা জাহাজের ডেক
যেখানে নিজেরই মুখোমুখি
গভীর আলোচনা হয় মৌন মুখ।  
চারদিকে অন্ধকারের ছলাৎ ছলাৎ
নোঙ্গর খুলে এগিয়ে যায় জাহাজ
আমি থেমেই থাকি একটি বিন্দুতে।  
অন্ধকারে মিশে যেতে যেতে
কারা যেন উচ্চারণ করে যায়
আমার প্রাণের বর্ণমালা –
ডেকে যায় আমার নাম,
বেড়ে যায় নাম থেকে
আমার দূরত্ব...

হারান চন্দ্র মিস্ত্রীর দুটি কবিতা --

হারান চন্দ্র মিস্ত্রীর দুটি কবিতা --

১ অপ্সরা

মানুষের প্রচন্ড ভিড়-
ভিড়ের মাঝে আমি একা।
নিঃস্ব অসহায় বোধ করি তোমার জন্য এক
প্রেমের ভিখারী।
তুমি দানী-
দান করো তোমার অমোঘ প্রেম।
হৃদয়পাত্র নিয়ে প্রতীক্ষায় আছি আমি,
যার আলিঙ্গনে 
তুমি তৃপ্ত হতে পারো আজীবন।
অলঙ্কার আর অহঙ্কারে পরিপূর্ণ হয়ে
তুমি হয়ে উঠতে পারো
এ যুগের সম্পূর্ণা।
তোমার প্রেমে মুগ্ধ যে হাত পেতে
তাকে এড়িয়ে
সমাধিস্ত ঋষির ধ্যান ভাঙাতে 
অনাবিল ব্যস্ততা কেন তোমার
অপ্সরা।

বখাটে

গ্রামের বখাটে ছেলে,
সুঠাম শরীর তার,
খেলাধূলা করে বড়ো হয়েছে সে,
শুধু নামসই জানে।
বাবা নেই, 
রাস্তার পাশে
একটি কুটিরের বাসিন্দা তার মা।
কারও ফরমাস অবমাননা করে না,
সারাদিন হাসিখুশি থাকে আর
গীত গায় এই ছেলে।

অতর্কিতে একবার 
সে শুয়ে পড়েছিল হাসপাতালের শয্যায়
এক অসহায় প্রসূতির রক্ত দিতে।
সেবার নিজের উপার্জনের সমস্ত টাকা দিয়ে
মোড়ল পাড়ার বুড়ি পিসিকে
বাঁচিয়ে এনেছিল কঠিন অসুখ থেকে।
এবার মোড়ল মশায়ের ছোটো মেয়ের বিয়েতে গন্ডগোল।
গহনার ওজন নিয়ে কথা কাটাকাটি
মারামারি পর্যন্ত গড়িয়েছে।
ফিরে গেছে বর।
অতএব বখাটে ছেলেকে ধর!

কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই
হয়ে গেল গায়ে হলুদ।
কে শোনে কার কথা!
গাঁটছড়া বাঁধা হলো দুজনের।
সিঁদূরদানও শেষ।
কার জীবনে কখন যে কী ঘটে যায়!

কুঁড়ে ঘরে টিম টিম করে জ্বলছে আলো।
মা বারান্দায়।
বাসররাতে একঘরে দুজনে।
কনে বৌ সেজেগুজে অপেক্ষায়।
ধনীর দুলালী 
আজ তার ঘরে লক্ষ্মীপ্রতিমা।
সঙ্কোচে এগোতে পরে না
বখাটে ছেলে।
অগত্যা এগিয়ে এসে চোখে চোখ রাখে
মোড়লের ঝি।
বৌকে প্রশ্ন করে বখাটে-
আমাকে মন থেকে মেনে নিয়েছ তুমি?
উত্তরে অশ্রুতে চোখ ভাসিয়ে
স্বামীকে জড়িয়ে ধরে বলে নতুন বৌ-
তোমাকে না মেনে পারা যায়!
শুধু তোমাকেই ভালবাসি।
জনম জনম যেন তোমাকেই পাই।

জয়িতা ভট্টাচার্যর দুটি কবিতা --

জয়িতা ভট্টাচার্যর দুটি কবিতা --

পর্যটন--    

বৈষ্ণবী খুঁজে ফেরে পরশপাথর।
কলমী শরীরে পর্যটন।
মধুপের লোভে ফুল পাখা মেলে
আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠে রাত।
 
দীর্ঘদেহী আসে  ফকির
আসে কঠিন বেশে।
বৈষ্ণবী যায় পর্যটনে
মোহিনী রাত জেগে।
বৈষ্ণবী পায় তীর্থের জল,
ডুব দিয়ে সে ভেজায় বেণী,
কলমী ঝোপে লুকিয়ে থাকে সাপ।
অভয় ফকির পিছন ফেরে 
কন্ঠিমালা গলায় তোলে,
কালো মেঘেও উদ্দিপনের তাপ।
 দেহসখ্য শেষে নির্জীব রাত রইবে পড়ে।
প্রথম পাখি ধরবে ছুটে প্রথম লোকাল
সুয্যিপুরে।

পথেরধুলো
ভৈরবী গায় পর্যটন শেষে।

নিশান

তত রাখঢাক নেই
অত কথাও বলি না
কারন কখন একটা শলাকা এসে চিরে দেবে
শব্দের বুক আমি জানি না।
জিভ কেটে ঢুকিয়ে রেখেছি ওয়ারড্রোবে।জঙ্গলে।
ততটা বুদ্ধি আমার নেই তাই
বুঝি না বিপদ আসবে কোন সীমান্তে।
সমস্ত আঙুল কেটে প্রায়শ্চিত্ত 
সমস্ত কাটা আঙুল তোমার উঠোনে।

এখন এক টুকরো স্বস্তির খোঁজে
ঘুরে আসি চাঁদের দোকানে।মধ্যরাতে।

অব্যক্ত কথা--তীর্থঙ্কর সুমিত

অব্যক্ত কথা--
তীর্থঙ্কর সুমিত


কিছু কথা ---
মুখোশের খোঁজে যন্ত্রনা হারায়
ফেলে আসা সব ব্যর্থতায়
ফিরে আসে ঢেউ
ভালোবাসার সমীকরণে
হারানো যত চাহিদা
চুপ কথার হাত খোঁজে
ব্যর্থ সময়,
মুহূর্তেরা বদলে যায় মুহূর্তের সাথে
তাইতো ভোর সকালে
আজও সূর্য হাসে
ভালো থেকো মুখোশের মুখ
বদলে নাও সময়
আড়ালে থাকুক ফুলের পাপড়ি

আর,তোমার আমার
অব্যক্ত কিছু কথা।

ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা --


ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা --


১ বসন্ত আছে বলে


বসন্ত আছে বলে

বাতাস বইছে বনে,

কান পেতে শোন

কুহু রব কোণে কোণে।

ঊষা গোধূলির রঙ চুরি করে

শিমুল পলাশ সাজছে,

গর্বের হাসি কৃষ্ণচূড়ায়

মাথায় রঙের তাজ যে!

 

শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি

এ নয় দীর্ঘশ্বাস।

পুরাতন গিয়ে আসবে নতুন

এ তো তার আশ্বাস।  

জীবন পথের নতুন প্রবাহ

মনে দোলা দিয়ে যায়,

সবুজ পাতায় রঙের শোভা

জীবনের গান গায়।

 

বসন্ত আছে বলে

জীবনটা আছে ছন্দে,

রিক্ত হস্ত পূর্ণ হৃদয়

আছে মহা নন্দে।

মনে মনে আজ মনমর্দন

ভালবাসা যারে কয়,

মানুষে মানুষে বন্ধন থাক

শত্রুরা হবে ক্ষয়।


দিনগুলো সব পালটে যাচ্ছে

 

দিনগুলো সব পালটে যাচ্ছে কেমন

আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে।

গল্পগুলো পালটে হয়েছে কল্পবিজ্ঞান-

রোবটের গল্প লিখছে রোবটেরাই।

 অনুভূতিগুলোর ডাইস তৈরি হচ্ছে নানা,

ইমোজিগুলো এক নিমেষেই

ঢুকে যাচ্ছে মনে।  

ছাঁচে ঢালা প্রেম বাঁচে না বেশিদিন-

রোমাঞ্চ আছে রোমান্স নেই।

 আকুতিহীন সম্পর্কগুলো

মড় মড় করে ভাঙ্গে।

হৃৎপিণ্ডে হৃদয় তবু খুঁজে বেড়ায় ক্ষ্যাপা

পরশপাথরের সন্ধানে।

মৃত্যু --- শান্তা মিএ

মৃত্যু --- শান্তা মিএ এ পোড়া দেশে মোরা মরি আর মরি। অসুকে মরি দারিদ্র্যের তাড়নায় মরি  অ্যাক্সিডেন্টে মরি অমিক্রণ করোনা নামক ভিন্...